শুষ্ক মৌসুমে ধূলাবালি হয়ে খানাখন্দ, বর্ষাকালে কাদা-পানি মহম্মদপুরে তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় বছর জুড়েই ২০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি

0
281

মুরাদ হোসেন, মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে : একটি কাঁচা রাস্তার বেহাল দশার কারণে চরম দূর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নসহ আশপাশের ২০ গ্রামের হাজারো মানুষের। মহম্মদপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওার্ডের বঙ্গেশ^র গ্রামের মোজাম মোল্যার মোড় থেকে দীঘা জোড়া ব্রিজ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এই কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থা। ইটের সলিং দেয়া থাকলেও তা দীর্ঘদিন হওয়ায় ভেঙেচুরে খানাখন্দে ভরেগেছে। আর তাই শুষ্ক মৌসুমে ধূলোময় হয়ে খানাখন্দে ভরা এবং বর্ষাকালে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। পায়ে হেঁটে যাওয়াই দূস্কর ওই রাস্তা দিয়ে। অথচ এই রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে।
স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে ধূলোময় হয়ে খানাখন্দে ভরা এই রাস্তাটি চলাচলে যেমন দূর্ভোগ। তেমনই বর্ষাকালেও বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে যানবাহন চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে এবং অসুস্থ্য রুগী উপজেলা বা জেলা সদরে নিতে বেকাদায় পড়তে হয়। ফলে তাদের ভোগান্তি ও ব্যয় দুটিই বাড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং এ অঞ্চলের প্রায় ২০ গ্রামের হাজারো মানুষের বছরের সব সময়ই দূর্ভোগ যেন পিছু ছাড়েনা।
অথচ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করে মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের বঙ্গেশ^র, রায়পুর, চিত্তবিশ্রামসহ পার্শবর্তী দীঘা ও বাবুখালী ইউনিয়নের কিছু অংশ মিলে প্রায় ২০ গ্রামের চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার মানুষ। নানা কাজে তাদের উপজেলা সদরে আশার একমাত্র রাস্তা এটি। এছাড়াও পার্শবর্তী জেলা ও উপজেলার লোকজন এলাকার আত্মীয়-স্বজনের বাড়ী আসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই রাস্তাটি যাতায়াতে ব্যবহারে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। স্থানীয় যুব সমাজ নিজ উদ্যোগে কিছুকিছু জায়গায় ইট বালু দিয়ে মেরামত করেছে। কিন্তু তাতেও ভোগোন্তি শেষ হচ্ছে না।
চিত্তবিশ্রাম গ্রামের কৃষক আবু তালেব বলেন, এই কাচা রাস্তার কারণে আমাদের ফসল নিয়ে যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোয়াতে হয়। আমাদের ক্ষেতের ফসল বেচার জন্য হাটে-বাজারে নিতে পারি না। ভ্যান নছিমন আসতে চাই না। আবার আসলেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। কোনো কোনো সময় মালামালসহ ভ্যান বা নছিমন উল্টে মালের ক্ষতি হয়। তাই এই কাচা রাস্তাটি পাকা হলে আমরা বাঁচতাম।
চিত্তবিশ্রাম বাজারের পল্লী চিকিৎসক জাকারিয়া বলেন, খানাখন্দে ভরা এই সড়কটি চলাচল করতে চরম দূর্ভোগ পোয়াতে হয়। চিত্তবিশ্রাম বাজারের পাশে প্রায় প্রতিদিন দূর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল চালকেরা প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হন। এছাড়াও কোনো ব্যক্তি অসুস্থ্য হলে তাদেরকে উপজেলা সদরে বা জেলা হাসপাতালে নিতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ধোয়াইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, ধুলজুড়ী গ্রামের তরিকুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, গোস্তান, ঈদগাহ ও এতিমখানাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুকনো মৌসুমে ধূলাবালি ও খানা-খন্দ এবং বর্ষা মৌসুমে কাদা পানিতে পরিনত হয় এই রাস্তাটি। ফলে এলাকার মানুষের দূর্ভেগের শেষ থাকেনা। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে এবং কৃষিকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে চরম দূর্ভোগ হয়। ফলে রাস্তাটি পাকাকরণ হলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।
উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, এই রাস্তা পাকাকরণের জন্য ডেন্ডার হয়ে গেছে। আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here