স্টাফ রিপোর্টার: কেশবপুরে বে-সরকারি মডার্ণ হাসপাতালে ভুল সিজারিয়ান অপারেশনে আবারও প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে গত এক বছরে এই ক্লিনিকটিতে ভুল অপারেশনে ৫ প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হলো।
বিভিন্ন সূত্রে জানাযায়, ১৮ সেপ্টেম্বর কেশবপুর উপজেলার সন্নাসগাছা গ্রামের আফছার শেখের কন্যা পার্শ^বর্তি মনিরামপুর উপজেলার মান্দ্রা গ্রামের মোস্তফা সরদারের স্ত্রী ২ সন্তানের জননী লাভলী খাতুনের (২২) প্রসব যন্তনা শুরু হলে তাকে স্থানীয় মডার্ণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তি মোতাবেক ওই রাতেই গাইনী ডাক্তার ছাড়াই অদক্ষ ডাক্তার দিয়ে ওই গৃহবধুর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। এসময় লাভলী খাতুনের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিলেও ভুল সিজারিয়ান অপারেশনের কারনে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের ফলে তার অবস্থার মারাত্নক অবনতি দেখাদিলে, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে সু-কৌশলে খুলনার একটি বে-সরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসার নামে পাঠিয়ে দেয়। এখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২৩ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে লাভলী খাতুনের সদ্য ভুমিষ্ট ছেলে সন্তানটি সুস্থ থাকলেও তার ৩টি শিশু সন্তান তাদের মায়ের খোঁজে কান্নায়, আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা এই প্রতিনিধিকে জানান। এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, লাভলী খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক কর্তৃপ্ক্ষ তার পরিবারের সাথে মোটা অংকের বিনিময়ে ঝামেলা মুক্ত হয়েছেন। এছাড়া কেশবপুর মডার্ণ হাসপাতালে ভুল সিজারিয়ান অপারেশনে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাহানপুর গ্রামের সাইফুল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (২৬), ১৭ আগষ্ট পারখাজুরা গ্রামের আব্দুল গণির স্ত্রী মুসলিমা খাতুন (২৩), ১০ মার্চ কেশবপুর সদরের মুলগ্রামের সাইদ সরদারের স্ত্রী মজ্ঞুয়ারা (২৮) এবং পাথরা গ্রামের জনৈক ব্যাক্তির স্ত্রীর ভুল অপারেশনে মৃত্যু হয়।লাভলীর পিতা আফসার সরদার বলেন, আমার মেয়ের চলে গেছে আর ফিরে পাবনা। তাই ক্লিনিক মালিক আমাদের ৬০ হাজার টাকা দিয়েছেন তাই মিটিয়ে নিয়েছি। মডার্ণ হাসপাতালের পরিচালক রবিউল ইসলামের কাছে মুঠো ফোনে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ফোনটি রিসিভ করে পরে কথা হবে বলে লাইন কেটে দেন।















