যশোরে চার বছরের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, লাশ গুম করার চেষ্টা

0
277

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর সদর উপজেলার পতেঙ্গালি এলাকায় নিখোঁজের ১২ ঘন্টা পর প্রতিবেশীর চালের ড্রাম থেকে সানজিদা নামে চার বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার সাথে জড়িত আঞ্জুয়ারা বেগম,ও আব্দুল মালেক গাজী নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। চার বছরের শিশু সানজিদা পতেঙ্গালী গ্রামের সোহেল হোসেনের মেয়ে। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সানজিদাকে বাড়ির পাশের দোকানে নিয়ে খাবার কিনে দেন সোহেল হোসেন। এরপর বাড়িতে দিয়ে যান। তারপর থেকেই নিখোঁজ সানজিদা। পরিবারের সদস্যরাসহ প্রতিবেশীরা সারাদিন তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে। এমনকি পুকুরে জাল ফেলেও খোঁজ করা হয় তাকে। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন সোহেল হোসেন। ওই জিডির কপি নিয়ে মেয়েকে উদ্ধারের আশায় সোহেল ও তার স্ত্রী ডিবি অফিসে যান। ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানায়, সানজিদাকে দুপুর ১২ টা থেকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরী করে সানজিদার পরিবার। পরে বিষয়টি নিয়ে ডিবি পুলিশ তদন্তে নামে। পরে তাদের সন্দেহ হয় আঞ্জুয়ারাকে। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে লাশ ঘরের ড্রামের মধ্যে রাখা আছে বলে সে জানায়। এরপর ডিবি পুলিশ ও কোতয়ালি থানা পুলিশ সানজিদার লাশ উদ্ধার করে। একমাত্র মেয়ের লাশ উদ্ধারের পর বুক ফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন শরিফা খাতুন । একপর্যায়ে মেয়ের লাশের পাশে শুয়ে পড়েন তিনি। এ সময় তিনি মেয়ের হত্যাকারীর বিচার দাবি করেন। তার পাঁজর ভাঙ্গা কান্নায় কাতর হয়ে পড়েন প্রতিবেশী ও স্বজনরাও। নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত আঞ্জুয়ারার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে প্রতিবেশীরাও। পুলিশ জানিয়েছে, পূর্বশক্রতার জেরে প্রতিবেশী সোহেলের মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ নিজের ঘরের চালের ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে রাখে আঞ্জুয়ারা। আঞ্জুয়ারা চিহ্নিত নারী ও শিশু পাচারকারী বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার এসআই কাজী জুবায়ের জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী শেষে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আটক আঞ্জুয়ারা বেনাপোলের পুটখালী এলাকার আলোচিত মাদক চোরাকারবারি। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু পাচারের অবৈধ ব্যাবসার অভিযোগ রয়েছে। যশোর শহরসহ পতেঙ্গালী গ্রামে তার ৪ থেকে ৫টি বাড়ি আছে। জেলা গোয়েন্দার (ডিবি) এসআই শামিম হোসেন বলেন, শিশু সানজিদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে আঞ্জুয়ারা। উদ্দেশ্য ছিল লাশ রাতে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হবে। তবে তার আগেই তাকে আটক করা হয়েছে। তবে আঞ্জুয়ারা জানিয়েছে, তার চালের ড্রামে চাল ছিল না। লাশ গোপন করার জন্য সে প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল সংগ্রহ করে আনে। এরপর তা লাশের উপরে ছিটিয়ে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক আনজুয়ারা তিন বছর আগে সানজিদাদের বাড়ির পাশে জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। তার স্বামী রেজাউল ইসলাম মাঝেমধ্যে এই বাড়িতে আসে। রেজাউল ইসলাম বেনাপোলের পুটখালী গ্রামের বাসিন্দা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here