নাসির আহমেদ,দশমিনা (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ঘূর্নিঝড় সিত্রাং ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জনপদ দশমিনার নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা আতংকের মধ্যে রয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারেই প্লাবিত হয়ে পড়েছে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের উত্তর রনগোপালদী ও আলীপুরা এবং চরবোরহান ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এদিকে উত্তর রনগোপালদী এলাকায় তীর রক্ষাবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি গ্রাম ও বাজার জোয়ারের পানিতে ভাসছে। অপরদিকে চরবোরহান ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ না থাকায় ধীরে ধীরে লোকালয়ে বন্যার পানি ঢুকে পড়ছে।
ভোর রাত থেকে বর্ষন এবং অমাবস্যার জোয়ারের পানিতে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার মূল ভূ-খন্ডসহ কোন চরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকার কারনে জোয়ারের পানি অনায়াসে ঢুকে পড়ে। ফলে চরাঞ্চলসহ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বর্ষন এবং একই সাথে সাগরে ঘূর্নিঝড় সিত্রাং’র কারনে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট বেড়ে যাবার ফলে জোয়ারের পানিতে সমগ্র এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ফলে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় এলাকার কৃষকের আমন ধানের ডুবে গেছে। কৃষকরা জানায়, জোয়ারের পানি নেমে গেলে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
অপর দিকে উপজেলার প্রমত্তা তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদী উত্তাল থাকায় চরাঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। উন্নত নৌযান না থাকায় ছোট ছোট ট্রলার নিয়ে নদী পাড়ি দিতে কেউ সাহস পায় না বলে পানিবন্দি পরিবার গুলোর কাছে কোন ত্রান সামগ্রী পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকা এবং থেমে থেমে ভারী বর্ষনের ফলে নদীর পানিতে জোয়ারের চাপ বেড়ে যাবার ফলে চরাঞ্চল থেকে কোন বাসিন্দারাই উপজেলা সদরে আসতে পারছে না। ফলে পরিবারের ছোট বড় সকলেই অবর্ননীয় সীমাহীন দূর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এদিকে জোয়ারের পানির তোড়ে আমন ধান ভেসে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা আমন ধান নষ্ট হয়ে হওয়ার দুশচিন্তায় পড়েছে।
উপজেলায় গতকাল সোমবার সকালে থেকেই জোয়ারের পানিতে চরাঞ্চলসহ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা এখন পানিতে ভাসছে। অতি বর্ষন ও জোয়ারের পানিতে ৫টি চরাঞ্চলের অর্ধ শতাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে বেশীর ভাগ নিচু এলাকা ডুবে গেছে। ফলে পানির মধ্যে ক্ষেতের ফসল,মৎস্য খামার,ধানের চারা সহ চাষকৃত আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। উপজেলার উপকূলবর্তী ৪টি ইউনিয়নের মানুষ বেশ আতংকের মধ্যে রয়েছে। জোয়ারে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।















