গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস আহরণে.যশোর অঞ্চলের গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছে

0
403

রাসেল মাহমুদ।। প্রকৃতির পালা বদলে আসন্ন শীত মৌসুম। প্রভাতে শিশির ভেজা ঘাস আর সামান্য কুয়াশার আবরণ জানান দিচ্ছে মধু মৌসুম বা শীতের আগমণী বার্তা। কথায় আছে যশোরের যশ, খেজুরের রস। তাই শীতের মৌসুম শুরু হতে না হতেই গাছ থেকে রস সংরহের পূর্ব প্রস্তুতি শুরু হয়েছে যশোর অঞ্চলে। এরই মাঝে গাছিরা ব্যস্ত হয়ে খেজুর গাছ কাটা শুরু করেছে।
রস সংগ্রহের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে এখন খেজুর গাছের আগায় বিশেষ পদ্ধতিতে কাটাকুটি বা চচা দেয়ার কাজ চলছে। ধারালো দা (গাছিদা) দিয়ে খেজুর গাছের মাথার সোনালী অংশ বের করা হয়। যাকে বলে চাঁচ দেওয়া। সপ্তাহ খানেক পর নোলন স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হবে সুস্বাদু খেজুর রস সংগ্রহের মুল কাজ। তার কিছুদিন পরই গাছে লাগানো হবে মাটির পাতিল। সংগ্রহ করা হবে মিষ্টি স্বাধের খেজুরের রস। তা দিয়ে তৈরি হবে লোভনীয় গুড় ও পাটালি। যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া সহ আশপাশের অঞ্চল গুলোর বেশির ভাগ গ্রামে এখনো চোখে পড়ে খেজুর গাছের বিশাল সমারোহ। জমির আইলে ও পতিত জায়গায় অসংখ্য খেজুর গাছ লাগিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। বিশেষ করে মথুরাপুর, খাটরা-বলরামপুর, দেয়াপাড়া, ঘুনি, শাখাঁরীগাতী, হাটবিলা, নরেন্দ্রপুর, ছাতিয়ানতলা সহ প্রভৃতি গ্রাম জুড়ে রয়েছে যশোর জেলার ঐতিহ্য খেজুরের গাছ। এই মৌসুমে খেজুরের রস দিয়েই গ্রামীণ জনপদে শুরু হয় শীতের আমেজ। শীত যত বাড়বে, খেজুর রসের মিষ্টিও তত বাড়বে। শীতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দিনের শুরুতে খেজুরের রস, সন্ধ্যা রস ও সুস্বাদু গুড়-পাটালী। বাড়ীতে বাড়ীতে খেজুুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা পায়েসসহ নাম না জানা হরেক রকমের মুখরোচক খাবার তৈরির ধুম। সুস্বাদু পিঠা ও পায়েস তৈরীতে আবহমান কাল থেকে খেজুর গুড় ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
খেজুরের রস বিক্রি ও গুড় তৈরির কাজ এলাকায় চলে পুরোদমে। এখন চলছে পূর্ব প্রস্তুতি। হাটবিলা এলাকার গাছি জলিল মিয়া জানান, প্রথমে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে গাছের আগা কাটা হয়। মৌসুমের শুরুতে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হওয়ায় একা সম্ভাব হয় না। গাছের আগা কাটার জন্য অবশ্য শ্রমিকদের ৩’শ থেকে ৩’শ ৫০ টাকা মজুরি নিয়ে গাছ কাটাতে হয়। তিনি আরো জানান রস সংরহের সময় অর্থাৎ শীত মৌসুমের পুরো চার মাস জুড়ে তারা বাড়িতে খেজুরের গুড় ও পাটালি তৈরি করেন। ওই সময় তাদের প্রতিদিন আয় হয় এক থেকে দুই হাজার টাকা।
অনেকের আবার খেজুর গাছ কেটেও সংসার চলে। এ মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকার ব্যাপারিরা রূপদিয়া, বসুন্দিয়া, ছাতিয়ানতলা ও খাজুরা বাজারে গুড়ের হাটে হাজির হয়। তারা এসব হাট থেকে খেজুরের গুড় ও পাটালি কিনে সারা দেশে সরবরাহ করেন। এখানকার কারিগরদের দানা পাটালি তৈরিতে ব্যাপক সুনাম থাকায় খেজুরের গুড়-পাটালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে অন্যান্য জেলা এমনকি দেশের বাইরে। অনেকে এখন লাভজনক ব্যবসা হিসাবে নিয়ে সরাসরি গাছিদের কাছ থেকে অর্ডার দিয়ে পাইকারী দরে কিনে দেশের বাইরেও সরবরাহ করছে যশোরের সুস্বাদু এই গুড়-পাটালী।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here