মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : মাগুরার মহম্মদপুরে বড়রিয়া গ্রামের আবু বক্কার শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর ৩৮ দিন পর কবর খুড়ে তার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। পিতৃ হত্যার অভিযোগে তার বড় ছেলে সিজান মাহমুদ সাগর বাদি হয়ে তার মা ও মামাসহ ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়েরের পর বুধবার (৯ নভেম্বর) সকালে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে মর্গে পেরণ করেছে স্থানীয় পুলিশ।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাসুদেব কুমার মালো, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. সৌরভ সাহা, সংশ্লিষ্ট কাজে কর্তব্যরত পুলিশ ও ডোম সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কবর খুড়ে লাশ উত্তোলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ধোয়াইল গোরস্তানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। মামলার আরজি মতে, গত ২ অক্টোবর ভোরে মারা যান আবু বক্কার শেখ। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর সৌদিতে ব্যবসা করতেন। এ কারণে এলাকায় তিনি ‘ধণি বক্কার’ নামে পরিচিত। তিনি সৌদিতে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী স্থানীয় জনৈক রকিবুল ইসলাম হিরকের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বহূবার তাকে অনৈতিক পথ থেকে ফিরে আসার কথা বললেও তিনি তা শোনেন নি। একমাস আগে তার স্ত্রী কথিত ওই প্রেমিকের সাথে নিরুদ্দেশ হন। এক সপ্তাহ্ পর বাড়িতে ফিরে আসলে তার স্বামীসহ কয়েকজন তার নিরুদ্দেশ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্বামীকে খুন করার হুমকি দেন। ঘটনার একদিন আগে সকল বাদির আপন মামা মাছুদুর রহমানের বাড়িতে আসামীরা বসে আবু বক্কার শেখকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে মোতাবেক ঘটনার দিন গত ২ অক্টোবর ভোর রাতে আবু বক্কারকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর বালিশ চাপা দিয়ে শ^াসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর আসামীরা তড়িঘড়ি করে বক্কার শেখের লাশ দাফন করে দেয়।
মামলার বাদি সিজান মাহমুদ সাগর জানান, বাবার লাশ দাফনের পর বিশ^স্ত কয়েকজনের কাছে পিতার মারা যাওয়ার রহস্য জানতে পারেন। বক্কার শেখ মারা যাওয়ার ১০ দিন পর গত মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) তিনি মাগুরা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বাদির মায়ের কথিত প্রেমিক রকিবুল ইসলাম হিরককে প্রধান আসামী করা হয়েছে। ২ নম্বর আসামী করা হয়েছে তার মা সিমা পারভীনকে। ৫ নম্বর আসামী করেছেন আপন মামা মাছুদুর রহমানকে। এই মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত রয়েছে আরও ৪/৫ জন। মৃতের লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের কথাও বলা হয়েছে মামলায়।
গত বুধবার (১২ অক্টোবর) মহম্মদপুর আমলী আদালত মাগুরার বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মু. হাবীবুর রহমান দরখাস্তটিকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করে পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের জন্য মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার খবর পেয়ে আসামীরা আত্মগোপন করেন। মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অসিত কুমার রায় বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কবর খুড়ে লাশ উত্তোলন করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।’















