হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের আমন চাষিদের এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কারেন্ট পোকা। রাজগঞ্জ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি মাঠে এই পোকার আক্রমণে বিঘা বিঘা জমির পাকা আমন ধান নষ্ট হচ্ছে। চাষিদের বক্তব্য- কোনো ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না কারেন্ট পোকার হানা।
চাষিরা পাকা ধানে কীটনাশক প্রয়োগ করছে। তাতে পোকার আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই যে চাষিদের ধানে কারেন্ট পোকা লেগেছে, সেই চাষিরা আদৌও আমন ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তাঁরা জানেন না।
খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে- উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের হরিহরনগর ইউনিয়নের হরিহরনগর, মদনপুর, শৈলি, ঝাঁপা ইউনিয়নের ঝাঁপা, হানুয়ার, খালিয়া, চালুয়াহাটি ইউনিয়নের মোবারকপুর, চালুয়াহাটি, নেংগুড়াহাট, মশ্বিমনগর ইউনিয়নের চাকলা, পারখাজুরা, কাঁঠালতলা, রামপুর, হয়াতপুর, শাহপুরের অধিকাংশ মাঠে কারেন্ট পোকা হানা দিয়েছে। এর মধ্যে হরিহরনগর ও ঝাঁপা ইউনিয়নের কয়েকটি মাঠে প্রকোপ বেশি।
চাষিরা জানিয়েছেন- এমন পরিস্থিতিতে এখনো কোনো কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে আসেনি।
ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার ও কোমলপুর এলাকার কয়েকজন চাষিরা জানিয়েছেন- কারেন্ট পোকার আক্রমণে এতোটায় ক্ষতি হয়েছে যেনো ‘পাকা ধানে মই’ দেওয়ার পরিস্থিতির মতো। ধানের যে সমস্ত জায়গায় পোকার হানা বেশি, সেখানে ধান গাছের শীষ শুকিয়ে যাচ্ছে। আর যে ক্ষেতে এখনও পোকার আক্রমণ ততটা জোরালো নয়, সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন চাষিরা।
হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের চাষি নিছার আলী জানান- এখন আমাদের মাঠে সবধান প্রায় পাকা। এই পাকা ধানে কারেন্ট পোকা যে জমিতে হানা দিচ্ছে, সেই জমির সবধান রাতারাতি খাওয়া শেষ। কারেন্ট পোকা লাগার কারণে হরিহরনগর ইউনিয়নের অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ওই গ্রামের চাষি সুশান্ত মণ্ডল বলেন- এই পোকাগুলো ছোট্ট ছোট্ট। জমিতে গেলেই পোকার উপস্থিতি বোঝা যায়। এই পোকাগুলো ধান খেয়ে খুব ক্ষতি করছে। তিনি বলেন- কীটনাশক প্রয়োগ করে বেশি একটা লাভ হচ্ছে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যে পাকা ধান খেয়ে ফেলছে এই পোকায়।
কয়েকজন চাষি বলেন- কারেন্ট পোকা বেশি হানা দিয়েছে স্বর্ণ প্রজাতির ধানে। স্বর্ণ প্রজাতির ধান যে মাঠে বেশি হয়েছে, সেখানেই পোকার আক্রমণ বেশি হয়েছে।
কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে বা অনেক জায়গায় করা হচ্ছে। তবে, তাতেও শেষ রক্ষা হবে কিনা জানি না।
স্থানীয় কৃষি দফতর বলছেন- এবার বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে থেকে চাষিরা আমন ধান একটু দেরিতে রোপন করেছেন। ফলে ধানের ফলন আসতে দেরি হয়েছে। তবে ধানে পোকার আক্রমণ বেশি না।
একথা মানতে নারাজ চাষিরা। চাষিরা বলছেন- কৃষি কর্মকর্তারা কোনোদিন আমাদের মাঠে আসেনি। তাদের আমরা চিনিও না। তারা কিকরে বলবে ধানে পোকা লেগেছে কিনা। চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আর কৃষি কর্মকর্তারা বলছে বেশি ক্ষতি না। একথা সত্য না।
চাষিরা আরো বলেন- যে ধান ক্ষেতে ইতিমধ্যেই ক্ষতি হয়েছে, তাতে আর কিছু করার নেই। আর যে ধানে এখনো পোকা লাগেনি, সেই ধরণের জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করে কারেন্ট পোকার আক্রমণ প্রতিহত করে, ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করছি।















