ঝিকরগাছা গাজীরদরগাহ ফয়জাবাদ ফাযিল(বি.এ) মাদরাসা সার্বিক শিক্ষার সাফল্যের ধারায় চলছে সহশিক্ষা কার্যক্রম

0
370

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোরের ঝিকরগাছার ঐতিহ্যবাহী গাজীরদরগাহ ফয়জাবাদ ফাযিল(বি.এ) মাদরাসার শহীদ মিনার নির্মাণ সমাপ্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষার সাফল্যের ধারায় চলছে সহশিক্ষা কার্যক্রম। নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি চলছে নিয়মিত এ্যাসেম্বলি; সমবেত কন্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…’ পরিবেশন ও শরীর চর্চা। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সার্বিক শিক্ষার সাফল্যের ধারাবাহিকতার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে সহশিক্ষা(ছাত্র-ছাত্রী) কার্যক্রম চালু রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে এবতেদায়ী(শিশুশ্রেণি) থেকে ফাযিল(বিএ) পর্যন্ত ক্লাস চালু রয়েছে। এক একর ৬৯শতাংশ জমির উপর ১৯৫৫সালে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটি এমপিও ভুক্ত হয় ১৯৮৫সালে। ১৫টি শ্রেণিকক্ষ মিলিয়ে ২২জন শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৬৩জন। এরমধ্যে তিনতলা বিশিষ্টি ৩টি ভবনের আবাসিক ছাত্রের সংখ্যা ৯৫জন ও হেফজ খানায় ৫০জনসহ ৩জন প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী রয়েছেন এখানে। প্রতিষ্ঠানটির আজীবন দাতা সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ নুরল আমিন দুদু বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নিমিত্তে আমরা ‘শহীদ মিনার নির্মাণ করেছি’। জানামতে, গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১২হাজার মাদরাসায় শহীদ মিনার নেই এটা দুঃখজনক। প্রতিটি মাদরাসায় শহীদ মিনার নির্মাণের পাশাপাশি মানসম্মত সহশিক্ষার চালু করা উচিত। মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এএইচএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামি ভাবধারায় বিজ্ঞান সম্মতভাবে সহশিক্ষা প্রদান ও রাজনীতি কোলাহলমুক্ত পরিবেশে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০২১সালে আলিম পাবলিক পরীক্ষায় জেলা পর্যায়ে শেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এই প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষর্থী হাফেজ মোঃ শাকিল আহম্মেদ। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২২ এ মাদরাসা ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটি জেলার শ্রেষ্ঠ মাদরাসার স্বীকৃতি লাভ করে। পরিচ্ছন্ন-মনোরম পরিবেশ, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণসহ ক্যাম্পাস ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও সময়ানূবর্তীতায় আনা হয়েছে আমুল পরিবর্তন। আর এসবই সম্ভব হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির আজীবন দাতা সদস্য মোঃ নুরল আমিন দুদু সাহেবের অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে- জানালেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। এদিকে, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংকট বিদ্যমান থাকলেও মাদরাসাটিতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একাডেমিক ভবন নির্মাণে এখন অনিশ্চয়াতা কাটেনি। অভিযোগ ওঠে, নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারের গাফিলতি ও রহস্যজনক কারণে এই অনিশ্চয়াতা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জানাগেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২কোটি ৮৮লাখ টাকা ব্যয়ের চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনটির ভিত্তিপ্রস্থ সহ কয়েকটি কলম তৈরি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের মালামাল গুটিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০১৮ সালের ১০অক্টোবর একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন যশোর-২ আসনের তৎকালিন এমপি অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির। একই সময়ে উপজেলার বেজিয়াতলা ও সোনাকুড় মাদরাসার ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ শেষে বেজিয়াতলা ও সোনাকুড় মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন দুটি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেছেন। কিন্তু অনিশ্চয়তার ঘোর কাটছেনা গাজীর দরগাহ ফয়জাবাদ কামিল (বিএ) মাদরাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের। জানাগেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, যশোরের সহকারি প্রকৌশলী একেএম জহুরুল ইসলাম সাক্ষরিত এক লিখিত তাগাদাপত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যশোর সদরের বালিয়া ভেকুটিয়ার মেসার্স ইউসিএল-এমএসই (জেডি) বরাবর স্মারক নং- এই/ইইডি/২০২১/ তাং-২৩/১১/২১ইং প্রেরণ করা হয়েছে। লিখিত ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘গাজীরদরগাহ মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ যার স্মারক নং- ইই/ইইডি/জেজেড/২০১৯/১৩৩৬। মোতাবেক বারবার মৌখিক তাগিদ দেবার পরও কাজ শুরু করার ব্যাপারে আপনার চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইহাতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়াসহ মাদরাসার শিক্ষার পরিবেশের ভিষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এমতাবস্থায় কাজটি শুরু করার বিষয়ে আপনাকে জোর তাগিদ দেওয়া হলো। অন্যথায় পরবর্তীতে কোন জটিলতা তৈরি হলে সকল দায়দায়িত্ব আপনার প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে। কিন্তু এতকিছুর পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে যোগাযোগ করলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here