গরু পালন করে দেশ সেরা উদ্যোক্তা হতে চান চুড়ামনকাটির বেলেরমাঠ গ্রামের মুয়াজ্জিন মোস্তফা কামাল

0
496

চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি॥ ইচ্ছা থাকলে যে সব কিছুই সম্ভব তার উজ্জল দৃষ্টান্ত মোস্তফা কামাল।বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বেলেরমাঠ গ্রামে।তিনি বেলেরমাঠ গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।পেশায় যশোর শহরের দড়টানা মসজিদের মুয়াজ্জিন।মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত আজান আর তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পর অবসর সময় কিছু করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
মোস্তফা কামাল জানান,তার বড় ভাই মুস্তাক আহম্মেদ প্রবাসে থাকেন।তিনি তাকে পরামর্শ দেন অবসর সময়ে গরু পালনের।বড় ভাইয়ের কথায় রাজি হয়ে পরিকল্পনা করেন কয়েকটি গরু দিয়ে একটি ছোট খামার করবেন।২০১৫ সালে নিজ বাড়িতে তৈরি করেন একটি গোয়াল ঘর।যার সার্বিক সহযোগীতা করেন বড় ভাই। মাত্র ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে ২০১৫ সালে মাত্র ৮ টি ফ্রিজিয়ান গাভী দিয়ে ছোট্র পরিসরে চালু করেন একটি গরুর খামার।তিনি আরো জানান এর পর থেকে তার আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।নিজের সংসার চালানোর পাশাপাশি বড় করতে থাকেন তার খামারটি।প্রবাসে বসে সার্বিক খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন বড় ভাই।
সরেজমিন,বেলের মাঠ গ্রামের খামারে গিয়ে দেখা গেছে বর্তমান তার খামারে ৬০ টি বিভিন্ন জাতের বড় বড় গরু রয়েছে।এছাড়াও কয়েকটি গাভী রয়েছে গর্ভবতী।যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকার বেশি।খামারে রাতদিন কাজ করেন ৮/১০ জন শ্রমিক।বাড়ির পাশেই কাজ করে সংসার চালাতে পেরে তারা দারুন খুশি।
খামার মালিক মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন,আগে গো খাদ্যের দাম নাগালের মধ্যে থাকায় ভালোই লাভ হত।বর্তমানে গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়াই লাভের পরিমান কম হচ্ছে।এছাড়া খামারে সরকারী পশু চিকিৎসরা বারবার বলার পরও একবারও যাইনা।সরকারী পশু চিকিৎসকের না পেয়ে ব্যক্তি উদ্দ্যেগে প্রতি মাসে অনেক টাকা গুনতে হয় গরুর পিছনে চিকিৎসার জন্য।
তিনি আরো জানান,সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেলে আরো বড় খামার করতে পারবেন তিনি।তিনি বেকার যুবকদের গরু পালনে আগ্রহী হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।বর্তমানে তার খামারে বড় বড় গরু দেখতে এলাকাবাসী ভিড় জমাচ্ছেন প্রতিনিয়তই।গরু পালন করে তিনি দেশ সেরা উদ্যেক্তা হতে যান।ইতিমধ্যে তিনি এলাকাবাসীর নিকট একজন সেরা উদ্যেক্তা হয়ে গেছেন।তার দেখাদেখি এলাকায় অনেক বেকার যুবকরা এই গরু পালনে এগিয়ে আসতে শুরু করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here