মাহাবুবুর রহমান, কালীগঞ্জ ( ঝিনাইদহ) থেকে ॥ গ্রাম বাংলার এমনকি শহরের মানুষের অতি প্রিয় সু-স্বাদু খাদ্য কুমড়ার বড়ি। শীত মৌসুমে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য সু-স্বাদু এ খাদ্য তৈরি হয় উপজেলার সর্বত্রই। বর্তমানে পৌর সভা সহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে গ্রামীন নারীদের মধ্যে কুমড়ার বড়ি তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা সহ ১১টি ইউনিয়নের এমন কোন গ্রাম বা মহল্লা নেই যেখানে কুমড়ার বড়ি তৈরি হচ্ছে না। শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে গ্রামীন নারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে সু-স্বাদু কুমড়ার বড়ি তৈরির উপকরন সংগ্রহ। গ্রামের অনেকেই বানিজ্যিক ভাবে এ কুমড়ার বড়ি তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে থাকে। হাট-বাজারে সু-স্বাদু ও পুষ্টিকর এ খাবারের চাহিদা বেশি। প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সু-স্বাদু ও পুষ্টিকর গ্রাম-বাংলার এ কুমড়ার বড়ি তৈরি করতে বিভিন্ন উপকরন প্রয়োজন হয়। অপর দিকে এ বড়ি তৈরি করতে বেশ পরিশ্রম করতে হয়। সবচেয়ে সহজ উপকরন হচ্ছে চাল কুমড়া ও মাস কলাইয়ের ডাল বিভিন্ন গ্রাম থেকে সহজেই সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে মাস কলাইয়ের দাম বেশি হওয়ায় গ্রামীন বধুরা আগের মত ইচ্ছা করলেই বড়ি তৈরি করতে পারছে না। বড়ি তৈরি করতে চাল কুমড়া ফাঁলি দিয়ে কেটে তা বহু ছিদ্র যুক্ত ধারালো টিনের পাত্রের উপর ঘষে মাস কলাই ও চাল কুমড়া ঢেঁকিতে অথবা শীল পাটায় বেটে লবন মিশিয়ে কুমড়ার বড়ি তৈরির মন্ড করা হয়। তা আবার একটি পাত্রে ভাল করে ফেনিয়ে টিন অথবা বাঁশের মাচা তৈরি করে তার উপর মাদুর বা একটি পরিষ্কার কাপড় বিছিয়ে ছোট ছোট আকৃতির বড়ি রোদে শুকাতে হয়। শীত মৌসুমে কুমড়ার বড়ি তৈরি করার উত্তম সময়। সু-স্বাদু ও পুষ্টিকর এ খাবারের ব্যাপক চাহিদা থাকার সুযোগে এক শ্রেনীর মানুষ চাল কুমড়া ও মাস কলাইয়ের দাম বেশি হওয়ায় বড়ি তৈরির বিকল্প উপকরন হিসেবে কুমড়ার পরিবর্তে পেঁপে দিয়ে এ বড়ি তৈরি করছে। কালীগঞ্জ বাজারে এক কেজি কুমড়ার বড়ি ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কুমড়ার বড়ি এমনই এক সু-স্বাদু ও লোভনীয় খাদ্য যার নাম শুনলেই খেতে ইচ্ছা হয়। এ সু-স্বাদু ও মজাদার কুমড়ার বড়ি খায়না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। গ্রামের বধুরা এ সু-স্বাদু খাদ্য বিভিন্ন সময়ে খাবার জন্য শীত মৌসুমে বেশী করে বড়ি তৈরি করে ভাল করে রোদে শুকিয়ে ঘরে মজুদ করে রাখে। কুমড়ার বড়ি বিভিন্ন তরকারির সাথে রান্না করলে তরকারির স্বাদ ভাল হয়। খেতেও মজা লাগে। এ ছাড়াও কুমড়ার বড়ি যে কোন মাছ বা সবজির সাথে রান্না করে খাওয়া যায়। সরকারী বা বে-সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে এ কুমড়ার বড়ি হতে পারে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প।















