স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ মহান বিজয় দিবস। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। বিজয়ের গৌরবউজ্বল ৫১ বছর। জাতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় পালন করছে দিনটি। দিবসটি উপলক্ষে যশোরের জেলা প্রশাসনসহ সর্বস্তরে গ্রহণ করা হয়েছে বর্ণাঢ্য সব কর্মসূচী। শহরের সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন সুউচ্চ ভবনে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। উড়ছে জাতীয় পতাকা। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মৃতিময় করে রাখতে দেশব্যাপী তো বটেই যশোরেই পড়ে গেছে সাজ সাজ রব। সকালে বিজয়স্তম্ভে স্বাধীনতার মহান শহীদদের স্মরণে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানাবেন জেলা প্রশাসন। ১৯৭১ সালের এদিনে বিকেলে রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানী সেনারা মাথা নিচু করে যৌথ কমান্ডের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। যে অস্ত্র দিয়ে তারা দীর্ঘ নয় মাস বাঙালির রক্ত ঝরিয়েছে, ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে এক রাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে দুরন্তবাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয়।
সেই মাহেন্দ্রক্ষনে মুছে গিয়েছিলো বাঙালি জাতির হাজার বছরের দুঃখ ও গ্লানি। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। বাঙালির শৌর্যবীর্য এবং বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিবস। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বুকের উষ্ণ রক্তে রাঙিয়ে, মা ও বোনের অপরিসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাত্রীর বৃত্ত থেকে ছিনিয়ে আনে ফুটন্তসকাল। অফুরন্তআত্মত্যাগ এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় দিবসে তাই আনন্দের সাথে যোগ হয়েছে বেদনাও। বিজয়ের এই ৪৯ বছর অনেক চরাই-উতরাই পেরিয়েছে জাতি। কখনো সামনে এগিয়েছে, আবার পিছিয়ে গেছে নানা রাজনৈতিক টানাপোড়নে। তবুও হতোদ্যম হয়নি জাতি। হার না মানা বাঙালি অর্থনৈতিক-সামাজিক এবং ক্রীড়াতেও উড়াচ্ছে বিজয় নিশান। মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। মহান বিজয় দিবস উপলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা , সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে তাঁরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। তাঁরা দেশবাসীকে বিজয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।















