ওসি শেখ মনিরুজ্জামানের যোগদানে বদলে গেছে মণিরামপুর থানার চিত্র

0
635

এইচ এম জুয়েল রানা স্টাফ রিপোর্টার : সেবাই পুলিশের ধর্ম। পুলিশের কাজ কি এক কথায় বুঝাতে গেলে তাই বলা হয়। কিন্তু আইন ও বিধিমালা দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত পুলিশের কাজ মূলত অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছেন যাদের মধ্যে পুলিশকে নিয়ে একটা ভ্রান্ত ধারণা কাজ করে সব সময়। কিন্তু এমন কিছু পুলিশ অফিসার রয়েছেন যাদের সাথে না মিশলে বুঝাই মুশকিল একজন পুলিশ অফিসার এতটা সাদা মনের মানুষ হতে পারে। যার দক্ষতা, কর্তব্য নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও সততায় মণিরামপুর থানার বাসিন্দারা পূর্বের ন্যায় নির্ভয়ে শান্তিতে বসবাস করছেন।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান যোগদান করার পর থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে মণিরামপুর থানার মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, জঙ্গীবাদ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধমুক্ত একটি থানা গড়তে। উপজেলাব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মাদক নির্মুল করেছেন।এছাড়াও পারিবারিক, জমি-জমা বিরোধের জেরে মারপিট, রাজনৈতিক কোন্দলও তিনি থানায় বসে মিমাংসা করে এলাকার পরিবেশ শান্ত রেখেছেন প্রতিটি সময়। মণিরাপুর থানার সকল এলাকার যুবসমাজ যখন মাদকের ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে তখন মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি। দূর-দর্শিতার ফলে প্রায়ই উদ্ধার হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য এবং আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী-পাচারকারী এবং মাদকসেবী। এখন আগের তুলনায় থানায় সেবার মানও বেড়েছে। থানা মানেই টাকা। টাকা ছাড়া থানায় কোনো কাজ হয় না। এমন ধারনা জনসাধারণের। তবে জনসাধারনের সেই ধারনা পাল্টে দিয়েছেন মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান। থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন টাকা ছাড়াই সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ ও মামলা লেখা বা অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন। পুলিশের আচরণ যেমন পাল্টেছে, তেমন বদলে দিয়েছেন থানার চারপাশের চিত্র।সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও দৃষ্টিনন্দন করতে থানার মূল গেটে ঢুকতেই চোঁখে পড়বে ফুলের বাগান। থানা চত্বর পরিষ্কার পরিছন্ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে এবং সহজেই মানুষকে সেবা দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ওসি শেখ মনিরুজ্জামান। বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি থানাকে সাজিয়েছেন শৈল্পিক নৈপুণ্যে।সৃজনশীলতায় বদলে গেছে মণিরামপুর থানার চিত্র।মণিরামপুর থানার এসআই ইব্রাহীম ও এস আই মলয় বসু বলেন ওসি শেখ মনিরুজ্জামান স্যার সৎ, সাহসী, নিষ্ঠাবান অফিসার ইনচার্জ। স্যার মণিরামপুর থানায় যোগদানের পর থেকে। থানার সকল তদন্ত কারি অফিসারদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া থানা চত্বরে সবজি বাগান সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ রোপন করেছেন। থানার অফিসার ও ফোর্সদের সাথে আলোচনায় জানা যায় ওসি শেখ মনিরুজ্জামান অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মেধাবী অফিসার। প্রতিদিন তিনি সকাল ৯ টার মধ্যে থানায় উপস্থিত থাকেন এবং গভীর রাতঅবধি থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সকল অফিসারদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন ।
ওসি শেখ মনিরুজ্জামান জানান, যশোর পুলিশ সুপারের নির্দেশে যোগদানের পর থেকেই মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে উপজেলাব্যাপী মাদক নির্মুল করেছেন। তারপরও হত্যা মামলার আসামীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার, নিয়মিত অভিযানে ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে, মারপিট থেকে শুরু করে প্রায় সকল ধরনের অপরাধ প্রবণতা অনেক কমেছে।থানার সামনে-পেছনে অপরিষ্কার হয়ে থাকায় থানার সৌন্দর্য নষ্ঠ হচ্ছিলো। বর্তমানে থানার চারপাশের আবর্জনা পরিষ্কার করে ফুল গাছ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই কাজ গুলো করার পরে থানার সৌন্দর্য আরো বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো জানান কোনো চাওয়া-পাওয়ার জন্য নয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনে জনগণের পাশে দাঁড়াতে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি। মানবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যে কোনো অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বদা সজাগ আছি। আমার এ থানায় যেকোনো আইনি সহায়তা নিতে কোন প্রকার টাকা-পয়সা লাগে না । আর আমার কোন পুলিশ সদস্য যদি আইনি সহায়তা প্রদান করতে গিয়ে কারো কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা-পয়সার লেনদেন করেন আমি জানতে পারলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবো। সকল অপরাধ মুক্ত সমাজ গড়তে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি পূর্বে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার মত গুরুত্বপূর্ণ থানায় ওসি তদন্ত’র দায়িত্বে অত্যন্ত যোগ্যতা ও সফলতার সাথে পালন করেছেন। মনিরুজ্জামানের মত পুলিশ অফিসাররাই পারেন পুলিশ বাহিনীর সুনাম ও সম্মান বৃদ্ধি করতে। আর এই সততা ও নিষ্ঠার সাথেই বাকিটা সময় পার করতে চান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here