মালিক্জ্জুামান কাকা, যশোর : যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি কয়েকটি পৃথক অভিযানে ১৯ জনা ডাকাত কে আটক করেছে। এরমধ্যে বি-পতেঙ্গালী কমল চক্রবর্তীর বাসায় ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার-১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে লুন্ঠিত স্বর্ণালংকারের মধ্যে ২ ভরি ২ আনা ২ রতি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে অভিযানিক ডিবি টিম। আটক ডাকাতরা সিরিজ ডাকাতি চক্রের সদস্য।
২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর রাত অনুমান আড়াইটার সময় যশোর কোতয়ালী মডেল থানাধীন জনৈক কমল চক্রবর্তীর বাড়ীতে একদল অজ্ঞাতনামা ডাকাত ডাকাতি করে। ডাকাতরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকার জনসাধারণকে আহত করে এবং বাদীকে লোহার রড দ্বারা আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে ডাকাতি সংঘটন করে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুন্ঠণ করে নিয়ে যায়। সে ঘটনায় কমল চক্রবর্তী বাদী হয়ে এজাহার করেন। কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৭৭ তাং-২৭/১১/২০২২ ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু হয়।
জেলা পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম (বার), পিপিএম এর নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও থানা পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে ডিবি ওসি রুপন কুমার সরকার, পিপিএম (বার) এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার পৃথক ২ (দুই) টি টিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযানে যশোর জেলায় সিরিজ ডাকাতির ঘটনায় মোট ১৯ জন ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করে। ৯ জানুয়ারি যশোর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল এই আটক ও লুন্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের বিষয়টির তথ্য জানায়।
বি-পতেঙ্গালীর ঘটনায় রুজুকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল আলীম তদন্তভার গ্রহণ করে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মনিরামপুর থানার মামলা নং-২৭ (১১) ২০২২ মুলে গ্রেফতারকৃত ৯ জন আসামীদের গ্রেফতার দেখাইয়া পুলিশ রিমান্ডে আনিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তারা ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তথ্য প্রদান করে লুন্ঠিত স্বর্ণালংকার বিক্রয়ের তথ্য দেয়। মামলাটি পরবর্তীতে কোতায়ালি মডেল থানার ওসি তাজুল ইসলাম তদন্তভার গ্রহণ করে হাজতী আসামী গোলাম রসুলকে গ্রেফতার দেখাইয়া রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গোলাম রসুল খুলনার তেরখাদা থানার নলিয়ারচর গ্রামের মৃত তারা ভূইয়ার পুত্র। আটক গোলক স্বর্ণকার (৫৩) নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বড় কালিয়া (দক্ষিন) গ্রামের মৃত গোবিন্দ স্বর্নকারের পুত্র।
৭ জানুয়ারি গোলাম রসুলকে পুলিশ রিমান্ডে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম রসুল লুন্ঠিত স্বর্ণালংকার বিক্রয়ের কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্য মতে তাকে নিয়ে ৮ জানুয়ারি বিকালে ওসি তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবি ও থানা পুলিশ নড়াইলের কালিয়া বাজারে পলাশ জুয়েলার্সে অভিযান চালায়। দোকান মালিক গোলক স্বর্ণকারকে গ্রেফতার করে তার স্বীকারোক্তি মতে লুন্ঠিত স্বর্ণালংকারের মধ্যে ২ ভরি ২ আনা ২ রতি স্বর্ণালংকার ছাড়াও স্বর্ণ গলানোর গ্যাস কিট, সোহাগা পাউডার ও আসামীর মোবাইল ফোন সেট আলামত জব্দ করে পুলিশ।
ইতোপুর্বে মনিরামপুর থানার মামলা নং-২৭(১১)২০২২ এ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।















