দশমিনায় ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কৃষকরা তরমুজ চাষে ঝুঁকছে

0
383

নাসির আহমেদ,দশমিনা (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভাগ্য পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনতে তরমুজ চাষে কৃষকেরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছে। গ্রীস্মকালীন মৌসুমে মাঘ ও ফাল্গুন মাস তরমুজ চাষের উপযোগি সময়। উপজেলার কৃষকরা তাই তরমুজ চাষে ক্ষেত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। গ্রীস্মকালীন ফলের মধ্যে তরমুজ একটি জনপ্রিয় ও সুসাধু ফল। বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াস সহ নানা ভেষজগুন। কৃষকরা তরমুজের বাম্পার ফলনের জন্য ক্ষেত প্রস্তুতিতে কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, ভিটামিন সহ নানা রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। গত মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলন পাওয়ার আশায় এই বছর দ্বিগুন জমিতে তরমুজ চাষের জন্য ক্ষেত প্রস্তুত করছে। কৃষকদের জমিতে ইতিমধ্যে তরমুজের চারা দেখা গেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জনা যায়, গত বছরের ৪শত হেক্টোর জমিতে তরমুজ চাষ করা হলেও এই বছর উপজেলায় তরমুজ চাষ হচ্ছে ৫শত হেক্টর জমিতে। তরমুজ চাষে চাষিদের আগ্রহ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলার চর শাহজালাল এলাকার সফল তরমুজ চাষি মোঃ মাসুদ বলেন গত বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এই বছন দ্বিগুন জমি তরমুজ চাষের জন্য প্রস্তুত করছি। গত বছর ২৫ একর জমি চাষ করে লাভ করেছি ২৫ লক্ষ টাকা। এই বছর চর ও এলাকায় নিজ জমি ও একশোনা জমি কিনে ৭৫ একর জমিতে চাষ করছি তরমুজ। তিনি বলেন আমি প্রথমে ভোলা জেলার চরফ্যাশন এলাকার লোকদের সাথে তরমুজ চাষে কাজ করতাম তাদের কাছ থেকে শিখে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো তরমুজ চাষ করছি। প্রাথমিক ভাবে ভোলা জেলার ইউসূফ’র কাছে শিখেছি তরমুজ চাষের বিভিন্ন নিয়মকানুন। এখনও তরমুজ চাষে তার কাছ থেকে সম্পূর্ন পরামর্শ নিয়ে থাকি। তরমুজ চাষে ড্রাগন ও বিগফ্যামিলি বীজ ব্যবহার করছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এই বছর গত বছরের চেয়ে বিশি ফলন ও লাভ হবে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোলখালী এলাকার তরমুজ চাষি মাহাবুল সরদার বলেন, আমাদের এলাকায় ভোলা জেলার চরফ্যাশন এলাকার কৃষকরা এসে আমাদের এলাকায় জমি বন্ধক নিয়ে তরমুজ চাষ করে। তাদের সাথে থেকে আমি তরমুজ চাষ করা পদ্ধতি শিখি সেই থেকে প্রায় টানা চতুর্থ বারের মতো তরমুজ চাষ করছি। তরমুজ চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফলন আসা পর্যন্ত নিজ থেকে কিটনাশক, ভিটামিন, ছত্রাকনাশক, রাসয়নিক সার ব্যবহার করে থাকি। আমার ক্ষেতের তরমুজ ৬-৮ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। উপজেলা সহ বিভিন্ন বিভাগে তরমুজ বেচা-বিক্রির জন্য বাজারজাত করে থাকি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর ভালো ফলন আশা করছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাফর আহমেদ জানান, উপজেলায় এই বছর ৫শত হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সার ও কিটনাশক দেয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তাগন কৃষকদের সাথে থেকে সকল প্রকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এই বছর তরমুজ চাষিরা বাম্পার ফলন পাবেন ও লাভও বেশি হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here