মণিরামপুরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার স্ট্রিট লাইট নষ্ট হয়ে গেছে ॥ দেখার কেউ নেই

0
327

মোন্তাজ আলী, ভ্রাম্যম, প্রতিনিধি: মণিরামপুরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সোলার স্ট্রিট লাইটের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে আছে। লাইটগুলো মেরামত করা ও দেখার মত কেউ নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা বলে ছিলেন দেশের প্রতিটি গ্রাম হবে শহর। সে চিন্তায় জনগনের জন্য গ্রামের রাস্তাগুলো পিচ, হেরিন বোন, ফিলাট সোলিং দেওয়া হয়েছে, ছোট বড় ব্রিজ নির্মাণ, প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট লাগানো হয়েছে। সন্ধ্যার সাথে সাথে স্ট্রিট লাইটগুলো অন্ধকারকে দুরে সরিয়ে ঝিকিমিকি আলো দিয়ে পথিককে সুন্দর ভাবে পথ চলতে সাহায্য করলেও তা এখন অন্ধকারে পরিনত হয়ে পড়ে আছে বলে অভিযোগ।
সূত্রে জানাযায়, মণিরামপুর উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় কতগুলো সোলার স্ট্রিট লাইট আছে সে তথ্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাছ থেকেও জানা সম্ভব হয়নি। সাধারণ মানুষের ধারণা বিভিন্ন স্থানে আনুমানিক ১১ থেকে ১২শ’ সোলার স্ট্রিট লাইট আছে। বিভিন্ন স্থানে সোলার স্ট্রিট লাইটগুলো লাগানোর সময় লোকজন দেখা গেছে। বর্তমান উপজেলায় ৬ থেকে ৭শ’টি সোলার স্ট্রিট লাইট নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দেখার কেউ নেই। সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সোলার স্ট্রিট লাইটগুলো গুরুত পূর্নস্থানে স্থাপন করেছে। পৌর শহরে বিভিন্ন স্থানে সোলার স্ট্রিট লাইট দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জল বায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রনলায় অর্থয়ানে। এপ্রকল্পের সোলার লাইটগুলো উন্নত মানের হওয়ায় কত টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে তা জানাযায়নি। আর ইউনিয়ন গুলোতে সোলার স্ট্রিট লাইট দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনায় টিআর/কাবিটা প্রকল্পর মাধ্যমে। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক সরকারী এক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক প্রকল্প হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কাবিটার প্রকল্পের ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫৬০ টাকা ব্যয়ে ১৪৯ টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়। প্রতিটা লাইটে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৭৯ হাজার ৫৫০ টাকা ৬২ পয়সা। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে টিআর প্রকল্পের ১ কোটি ৫৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০০ টি সোলার স্ট্রিট লাইটে প্রতিটি লাইটে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৭৭ হাজার ১৪০ টাকা। উপজেলায় ধারাবাহিক ভাবে আনুমানিক ১১ থেকে ১২শ’ সোলার স্ট্রিট লাইট বসানো হয়েছে। বুধবার সন্ধার পর সরেজমিন গিয়ে দেখাযায়, পৌর শহরে পশু হাসপাতালের সামনে একটি সোলার লাইট বন্ধ হয়ে আছে। যার পুল নাম্বার ৬৫, ধান বাজার মোড়ে একটি, সরকারী কলেজ মোড়ে একটি, গাংড়া মোড়ে একটি, আকরাম মোড়ে একটি, চালকিডাঙ্গা বাজার দেলোয়াবাড়ি মোড়ে একটি, চালকিডাঙ্গা দাস পাড়া মোড়ে একটি, বেগারিয়াতলা মজিদের সামনে একটি, ব্রহ্মনডাঙ্গা মোড়ে একটি, ব্রহ্মপুর মোড়ে একটি, বারপাড়া মাদ্রসা সামনে একটি, গাবুয়াখালি বাজারে একটি, ঢাকুরিয়া রথখোলা মোড়ে একটি এভাবে গ্রামের ৬ থেকে ৭শ’টি সোলার স্ট্রিট লাইট গুলো নষ্ট হয়ে আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা বলে ছিলেন দেশের প্রতিটি গ্রাম হবে শহর। সে চিন্তায় জনগনের জন্য গ্রামের রাস্তা গুলো পিচ, হেরিন বোন, ফিলাট সোলিং করে দিয়েছে, ছোট কালভাট, বড় ব্রিজ নির্মাণ করে চলেছে, প্রতিটি বাড়িতে শত ভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট বসানো হয়েছে। সন্ধ্যার সাথে সাথে স্ট্রিট লাইট গুলো অন্ধকারকে দুরে সরিয়ে ঝিকিমিকি আলো দিয়ে পথিককে সুন্দর ভাবে পথ চলতে সাহায্য করছে। উপজেলার সব শ্রেনী পেশার মানুষ শেখ হাসিনার দক্ষতার সমালোচনা করছে। বর্তমান যেখানে সন্ধ্যার পর ঝিকঝিকে আলো ছিলো সেখানে অন্ধকারে পরিনত হয়ে আছে বলে অভিযোগ। লাইটগুলো কিছু দিন চলার পর নষ্ট হয়ে গেছে তা মেরামত করা ও দেখার মত কেউ নেই। চালকিডাংগা দাস পাড়ার মাধব দাস জানায়, আমাদের এই মোড়ে সোলার লাইটি দেওয়ার কারণে সন্ধ্যার পর লাইটির আলোতে বসে বিভিন্ন গল্প করতাম। আর বিদ্যুৎ চলে গেলেও মোড়ে সারা রাত আলো থাকতো। যাতায়াতের সুন্দর ব্যবস্থ ছিল। বর্তমানে লাইটি নষ্ট হওয়ার পর এলাকাটি ঘুটঘুটে অন্ধকারে পরিনত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পুলের গায় মোবাইল নাম্বার দেওয়া আছে সে নাম্বারে অনেক বার ফোন দিয়েছি কিন্তু ফোনটি রিসিভ করেনি। পৌর শহরে প্রতিটি পুলের গায়ে লেখা আছে সরবরাহকারী কে আলী এন্টারপ্রাইজের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে আলমগীর হোসেন জানান, আমরা যতো দ্রুত সম্ভব নষ্ট সোলার লাইটগুলো মেরামত করে দিবো। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিটি পোলের গায়ে লেখা আছে প্রকল্পের নাম টিআর/কাবিটা সার্বিক যোগাযোগ ০১৭৭৭৭৬৫৪৪৪ এই নাম্বারটি দেওয়া আছে। কিন্তু রাতে বার বার ফোন দিলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। ভোজগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমার ইউনিয়নে ৯০ ভাগ সোলার লাইট নষ্ট হয়ে গেছে। উদ্ধর্তন কৃর্তপক্ষের দ্রুত ঠিক করার জন্য দাবী জানাছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ বায়োজিত এর মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here