ভিন্ন ভিন্ন জাতের কুল চাষ করে ব্যাপক লাভবান শার্শার কুল চাষিরা

0
191

জসিম উদ্দিন, শার্শা : সীমান্তবর্তী উপজেলা যশোরের শার্শায় চলতি বছরে কুলের ব্যাপক বাম্পার ফলন হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন জাতের কুল চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক কুল চাষ শুরু করেছেন। কুল চাষের সাথে জড়িয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে অনেক কৃষকের।
সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে লুকিয়ে দোল খাচ্ছে মিষ্টি মধুর বাহারি রঙের কুল। রসালো কুল দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন সুস্বাদু। থোকায় থোকায় ঝুলে আছে কাশ্মিরী আপেল, বলসুন্দরী, থাই কুল, আপেল কুলসহ বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুল।
কুলের এখানকার স্থানীয় বাজার ছাড়াও প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার প্রধান প্রধান বাজারে বিক্রি হয়। বর্তমান কুল চাষ একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় এ চাষে ঝুঁকছেন আশেপাশের অনেক কৃষক। শার্শা উপজেলা জুড়েই কুলচাষ হলেও সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে বেনাপোল, বাগআঁচড়া, উলাশি, জিরানগাছা, শার্শা ও কায়বা ইউনিয়নে। উপজেলার বেনাপোল, কাগজ পুকুর, উলাশি, নাভারন, হাড়িখালি, বাগআঁচড়া ও বেলতলা বাজারে চলে মৌসুমী কুলের বেচাকেনা।
এখানে আছে অনেকগুলো কুলের আড়ত। এসব আড়ত থেকে প্রতিদিন অন্তত দুই ট্রাক কুল ঢাকা ও বরিশালের ফল বাজারে যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কুলের ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় অনেক খুশি কুল চাষিরা।
উপজেলার জিরানগাছা গ্রামের কুল চাষি হেকমত আলী জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ আমি কুল চাষ করি। তবে এ বছর এক দাগে ১০ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছি। বিঘা প্রতি ২০ হাজার করে মোট ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় আশা করছি দ্বিগুণ লাভবান হবো।
কুল চাষি আব্দুল আলিম বলেন, আমি ৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছি। ৪ বছর এই কুল চাষের সাথে জড়িত। কাশ্মিরী আপেল, বলসুন্দরী, থাই কুল ও আপেল কুল লাগিয়েছি। ফলন ও দাম ভাল পেয়ে আমি অনেক লাভবান। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবন করা আপেল কুল, বাউকুল, ঢাকা-৯০, নারিকেল কুল, নাসিম টক কুল, থাইকুল, বলসুন্দরি কুল, সিডলেস কুল, কাশ্মিরী জাতের কুলসহ বেশ কয়েকটি জাতের চাষ করেন তারা।
মাত্র চার মাসে লাখ লাখ টাকার ফলন দেখে জীবন বদলের স্বপ্ন দেখছেন আরো অনেকে। সরকারিভাবে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ও বিদেশে কুল রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহন করলে অধিক লাভবান হবেন বলে মনে করেন কুল চাষীরা। তবে এ অঞ্চলের বড় কুল চাষিদের সরকারি ভাবে কোন প্রণোদনা দেওয়া না হলেও ছোট ছোট চাষিদের প্রণোদনার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক কৃষকদেরকে কীটনাশক ও অন্যান্য বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান উপজেলা কৃষি বিভাগ।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাপ মন্ডল জানান, গত বছর যশোরের শার্শায় ৭০ হেক্টর জমিতে কুলের চাষ হয়। চলতি বছরে আরো ১০ হেক্টর জমিতে কুলের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চাষের সাথে জড়িয়ে রয়েছে অন্তত ২শত ১০ জন সফল কুল চাষি। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here