যশোরের গোপালপুরে দাফনের প্রায় ৫ মাস ২১ দিনপর কবর থেকে শ্রমিকের লাশ উত্তোলন।

0
186

রাসেল মাহমুদ। আদালতের নির্দেশে ময়না তদন্তের জন্য মৃত্যুর ৫ মাস ২১ দিন পর মোজাহার মেটাল ওয়াকার্স এ বৈদ্যুতিক শকে নিহত এক শ্রমিকের মরদেহ কবর থেকে উত্তলন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর।
নিহত শ্রমিকের পরিবারের অভিযোগ, মোজাহার মেটাল ওয়াকার্স এর মালিক ও আসামীদের প্ররোচনায় বাধ্য হয়েই লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করা হয়েছিল।
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইং (বৃহস্পতিবার) বেলা ১২ টার সময় যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউপির ৮ নং ওয়ার্ডের গোপালপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে ওই যুবকের মরদেহ উত্তলন করা হয়। নিহত শ্রমিক মোফাজ্জেল দফাদার (মোফা)। গোপালপুর গ্রামের আব্দুল জলিল দফাদারের ছেলে। পিবিআই যশোরের ইন্সপেক্টর হিরনময় সরকার জানান, নিহত মোফাজ্জেল দফাদারের পিতা আব্দুল জলিলের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় ময়না তদন্তের জন্য কবর লাশ উত্তোলন করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসময় যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহামুদুল হাসান, পিবিআই ইন্সপেক্টর হিরনময় সরকার, নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদি ও নিহতের বাবা জানান, তার ছোট পুত্র মোজাম্মেল দফাদার চাউলিয়াস্থ ‘মোজাহার মেটাল ওয়াকার্স’এ সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ওই প্রতিষ্ঠানের অপর শ্রমিক রূপদিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩ নং আসামি) ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ ব্যবহার করতো। সে কারণে তার ছেলে ওই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ মাস কাজ বন্ধ দেন। পরে অত্র প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক স’রদার’ গোপালপুর আদর্শ গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে হাসান (১ নং আসামী) ওই প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার একই গ্রামের মইনো দফাদারের ছেলে সোহেল (২ নং আসামী) এর প্ররোচনায় বেশি বেতনের প্রতিশ্রুতিতে, নিরাপত্তার আশ্বাসে ও মিনহাজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এসব বললে তার ছেলে গত ২৮ আগষ্ট থেকে আবারো ওই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। তিনি জানান যে, ৪ দিন কাজ করার পর ১ সেপ্টেম্বর তার ছেলে ফের প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য যান। পরদিন ২ সেপ্টেম্বর সকালে আসামী সোহেল তার বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাককে মোবাইলের মাধ্যমে তার ছোট ছেলের মৃত্যুর খবর জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের মৃতদেহ না পেলে অত্র প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার একই উপজেলার ঘোড়াগাছা গ্রামের খালিদ (৬ নং আসামী) এর দেওয়া তথ্যমতে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মৃতদেহ সনাক্ত করেন। এসময় তার আরেক ছেলে রুবেল হোসেন লাশের ছবি তুলতে চাইলে হাসান ও খালিদ বাধা দেন। পরে মোজাহার মেটাল ওয়াকার্স এর মালিক তাদেরকে ময়না তদন্ত না করার পরামর্শ দিয়ে লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় আসামীদের চাপে পড়ে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করতে বাধ্য হন তারা। দির্ঘ প্রায় ৬ মাস পর নিহতের পিতার করা আবেদনের প্রেক্ষিকে বৃহস্প্রতিবার বেলা ১২ টার দিকে কবর থেকে লাশ উত্তলন করে মর্গে পাঠানো হয়। এবিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও ন্যয়বিচার দাবী করেন নিহতের পরিবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here