মিঠুন দত্ত: সকাল ৯ টা অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রের সামনে ভ্যানের ওপর বসে আছেন ৭০ বছরের বয়েসের বৃদ্ধ বিকাশ বিশ্বাস। ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছেন। সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত ভ্যানের ওপরই বসে রয়েছেন। ভ্যান ভাড়া করে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে এসেছেন। সকাল ৯ টার সময় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স্রে এসেছেন ডাক্তার জসিম উদ্দিন, ডাক্তার গোবিন্দ পোদ্দার। তারা এসে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অফিসে বসে আছেন। সকাল সোয়া ৯টার সময়েও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তার অফিসে আসেননি। জানতে চাইলে অফিসে থাকা দুইজন ডাক্তার জানালেন উনি এসেছেন। কোথায় আছেন জানতে চাইলে বলেন হাসপাতালেই আছেন। সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে স্বাস্থ্যকর্মকর্তার রুমে যেয়ে দেখা যায় ৮/৯জন চিকিৎসক তার রুমে বসে আছেন। কখন রোগী দেখবেন জানতে চাইলে পাশের একজন চিকিৎসক বললেন মিটিং চলছে। মিটিং শেষ হলে চিকিৎসা দেয়া শেষ হবে। চিকিৎসা নিতে আসা বিকাশ বিশ্বাসের মত অপেক্ষা করছেন উপজেলার বলারাবাদ গ্রামের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ নিরাপদ মন্ডল,নড়াইল জেলার আগদিয়া গ্রামের হাসিনা বেগম (৩০), উপজেলার ধোপাদী গ্রামের সাকিব হোসেন (২০),রাজঘাট থেকে মায়ের সাথে চিকিৎসা নিতে এসেছেন রিফায়েত হোসেন (৮), উপজেলার পায়রা গ্রাম থেকে হাসিনা বেগম (৪ ৫)। চিকিৎসকের জন্য চিকিৎসা নিতে আসা হাসিনা বেগমের মত প্রায় শতাধিক নারী পুরুষ অপেক্ষা করছেন। কেউ টিকিট কেটে কেউ বারান্দায় কেউ বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করছেন। ধোপাদী গ্রামের মুজাহার হোসেন (৬৫) এসেছেন তার বুকে ব্যাথা অনভুব করছেন। তাকে হাসপাতাল থেকে ইসিজি করা হয়েছে হাসপাতাল থেকে। তার নিকট থেকে ৮০ টাকা নেয়া হলেও কোন মানি রিসেট দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামোনের কাছে কেন রিসিট দেয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন রিসিট দেয়া হয়না। খাতায় লিখে হিসাব রাখা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে পৌনে ১০ টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায় অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রের এ চিত্র। চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার বুইকরা গ্রামের রোকনুজ্জামান জানালেন এ চিত্র শুধু আজকের নয়। প্রতিদিন শতশত নারী পুরুষ চিকিৎকের অপেক্ষা করে বাড়ি ফিওে যেতে হয়। কারন সকালে এসেই ডাক্তাররা বড় ডাক্তাররের (স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) রুমে ঢুকে গল্প করে সাড়ে ১১ টার পরে রোগী দেখা শুরু করে এবং দুপুর ২ টা বাজার আগেই চলে যায়। এর মধ্যে ঔষধ কোম্পানির লোকের সাথে আড্ডাতো আছেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা গেছে, অভয়নগর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ২১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও চিকিৎসক রয়েছেন ১৩ জন। ফিল্ডসহ ৯৭ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর মধ্যে ৪২ জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন। হাসপাতালের আলট্রা স্নো ম্যাশিনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না। প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ম্যসিনটি ক্রয় করা হলেও তা ব্যবহার না করে বাইরে ডায়গনষ্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি এ্যামবুলেন্স থাকলেও সাধারণ মানুষ এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের নিকট থেকে প্রাইভেট ভাড়ার মত টাকা আদায় করা হয়। সেক্ষেত্রে কোন মানি রিসিট দেয়া হয় না।
শংকরপাশা গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন “ আমার আব্বাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ১ হাজার ৬ শত টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। বাইরে এ্যামবুলেন্স নিলেও ১৫/১৬ শত টাকা লাগতো। কম নিতে বললেও কম নেয়নি।
বুইকরা গ্রামের আব্দুল হাই বলেন, অধিকাংশ ব্যবস্থাপত্রে হাসপাতালে টেষ্ট না করে চিকিৎসকদের পছন্দমত ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। গরীব অসহায় মানুষ যে কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান বলেন “ ডাক্তাররা ঠিকমত অফিস করেন না বিষয়টা দেখবো। বিভিন্ন বিষয়ে টাকা নিয়ে রিসিট দেন না এ ব্যাপারে জানতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন আপনাদের যা লেখার থাকে লেখেন বলে ফোন কেটে দেন।”
যশোরের সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন “ে সব টেষ্ট হাসপাতালে হবে তা বাইরে করা যাবে না। এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ছাড়াও সব ফি আদায়ের রশিদ দিতে হবে। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো।















