মিঠুন দত্ত:যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিকে বাণিজ্যিক ভবনে পরিণত করা অন্যতম একজন চিকিৎসক শোভন বিশ্বাসের টেস্ট বাণিজ্য সহ নানা বিরুদ্ধে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দৈনিক যশোর সহ বেশ কয়েকটি প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পরও স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি । চিকিৎসক নামের ব্যবসায়ী শোভন বিশ্বাস অবাদে চালিয়ে যাচ্ছে তার টেষ্ট বাণিজ্য । তার কাছে সেবা নিতে গেলেই সেবার পরিবর্তে পাওয়া যায় একাধিক টেস্ট। যে টেস্ট গুলো রোগের সাথে সম্পর্কিত না। আবার টেস্ট দেবার পর সেটা কোথা থেকে করাতে হবে সে নির্দেশনাও দিয়ে দেন তিনি। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ও তার বিরুদ্দে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দায়িত্ব পালন নিয়েও জনমনে উটেছে প্রশ্ন। প্রশাসনের উদাসিনতায় দিন কেদনি বেড়েয় চলেছে চিকিৎসা সেবার নামে রমরমা ব্যবসা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি আজ সেবা কেন্দ্রর পরিবর্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
গতকাল সোমবার পায়রা ইউনিয়নের দিঘলিয়া গ্রামের পারভিন বেগম(৪৫) পেট ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এসময় তিনি হাসপাতাল থেকে টিকিট কেটে চিকিৎসক শোভন বিশ্বাসকে দেখান । পরে তাকে ৪টি টেষ্টে করিয়ে নিয়ে আসতে বলেন। এবং ডাক্তারের সহকারি সোহাগ হোসেন পারভিন বেগমকে বলেন,এই টেষ্ট গুলো লাইফ কেয়ার থেকে করিয়ে নিয়ে আসেন। পরে ওখানে গিয়ে একহাজার পাঁচশত টাকা দিয়ে টেষ্ট করিয়ে ডাক্তার দেখালাম। জানিনা কতটা সুস্থ্য হব। ঔষুধের চেয়ে টেষ্টর খরচ বেশি।
শংকরপাশা গ্রামের ইউসুফ হোসেন জানান,শরীর দুর্বলতার কারণে হাসপাতালে এসেছি ডাক্তার দেখাতে । ডাক্তার শ্ভোন বিশ^াসকে দেখানর পরে তিনি আমাকে বলেন আপনাকে যে টেষ্ট গুলো দিয়েছি সেগুলো করিয়ে নিয়ে আসেন।পরে ডাক্তারের সহকারি বলেন এগুলো লাইফকেয়ার থেকে করিয়ে নিয়ে আসেন।
ভাঙ্গাগেট এলাকার স্বামী সংসার হারান রাজিয়া বেগম(৫৪) জানান, আগে সিডলু মিলে কাজ করতাম কয়েক মাস হল কাজটি হারিয়েছি। পায়ে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছি ডাক্তার দেখাতে ।ডাক্তার শোভন বিশ^াসকে দেখানোর পরে তিনি আমাকে কয়েকটি টেষ্ট করিয়ে নিয়ে আসতে বলেন। টেষ্ট করাতে গিয়ে নয়শ টাকা লাগবে । আমার কাছেতো এতো টাকা নেই। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি।তিনি আর বলেন,সরকারি হাসপাতালে মানুষ আসে স্বল্প খরচে চিকিৎসা নিতে। আর এখানে স্বল্প খরচ তো দুরির কথা আরও কিছু বেঁচে কিনে টাকা নিয়ে আসলী ভাল হত।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক বার সংবাদ প্রকাশ হলেও এযাবত কাল টেস্ট বানিজ্যের বিষয়ে নেওয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। অভিযোগ আছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উর্ধতন কর্মকর্তারাও জরিত এই বাণিজ্যের সাথে। তাদের দিক নির্দেশনা মতোই প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে চিকিৎসকরা সেবা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্ন টেস্ট লেখেন এবং সেটা নিদিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে করতে বলা হয়। এতদিন একাজ গুলো বিভিন্ন ডায়াগনস্টিকের দালালরা করলেও বর্তমানে এ কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করছে চিকিৎসকরা। চিকিৎসকের লেখা অধিকাংশ টেস্ট হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে করার সুযোগ থাকলেও, চড়ামূল্যে বাইরের ক্লিনিকে/ ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এসব টেস্ট করতে রোগীদের বাধ্য করা হচ্ছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন একাধিক চিকিৎসক রয়েছে যারা সরাসরি বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকের সাথে সম্পৃক্ত। অনেকে আবার লেখার পর টেস্টের টাকার ৩০-৬০ % পায় ঘরে বসে।
টেষ্ট দেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসক শোভনের সাথে কথা বলবার জন্য তার রুমেগেলে তিনি জানান এখন রুগী দেখছি পরে কথা বলব। পরে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
এবিষয় অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: ওহিদুজ্জামানের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার অফিসিয়াল কোন বিষয়ে আপনাকে কোন কথা বলতে আমি রাজি নয় বলে ফোনটা কেঁটে দেন।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, আমি মঙ্গলবার অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাব । গিয়ে সকল বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখব।
Home
যশোর স্পেশাল এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার শোভন...















