চাল ২৫, তেল ১২০ টাকায় বিক্রি করছে ‘লস প্রোজেক্ট’

0
165

জেলা প্রতিনিধি যশোর : ২৫ টাকা কেজি চাল, ৪০ টাকায় ডাল, ৪৫ টাকায় চিনি ও ১২০ টাকায় সয়াবিন তেল বিক্রি করছে যশোরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আইডিয়া। শুধু চাল-ডাল, তেল-চিনিই নয় রমজানে এমন আরও ৯টি পণ্য বিক্রি করছে ওই সংগঠন। পুরো রমজানে ৫৩৭টি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পণ্য বিক্রি করবে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে যশোরের খড়কিতে আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার চত্বরে দেখা যায়, মাসব্যাপী ব্যবসায় লস করার জন্য ৯টি পণ্য নিয়ে বাজার বসিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। বাজারদরে পণ্য ক্রয় করে অর্ধেক বা তারও কম মূল্যে ৫৩৭টি মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারের কাছে সেসব পণ্য বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রথম দিনে এক ক্রেতা- ২৫ টাকা করে ৫ কেজি চাল, ১০ টাকা করে দুই কেজি আলু, ৪০ টাকা ধরে এক কেজি ডাল, ৪৫ টাকায় এক কেজি চিনি, ১২০ টাকায় এক লিটার তেল, ২০ টাকায় এক কেজি পেঁয়াজ, ৬০ টাকায় এক কেজি ছোলা, ২০ টাকায় এক কেজি চিড়া, ১০০ টাকা এক কেজি খেজুর ক্রয় করছেন।
আয়োজক সূত্র জানায়, সপ্তাহে একবার করে এ বাজার থেকে পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। এবার থেকে একজন ক্রেতা এক হাজার ২৮৭ টাকার পণ্য মাত্র ৫৫০ টাকায় কিনতে পারবেন। যশোরের আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন জানান, আমাদের সাধ্যের মধ্যে চেষ্টাই করছি। গত বছর লস প্রজেক্টের মাধ্যমে সেই তৃপ্তির স্বাদ আমার শিক্ষার্থীরা পেয়েছে।
তিনি আরও জানান, পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিম দেশেই রমজান এলে নিত্যপণ্যের দাম কমে। বাংলাদেশে বাড়ে। রমজানে সংযম ও আত্মশুদ্ধির সব শিক্ষাকে ভুলে গিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির মাধ্যমে সীমাহীন ‘লাভের লোভ’ ই এর জন্য দায়ী। আইডিয়া লস প্রজেক্ট পরোক্ষভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির সহনশীলতার মধ্যে নিয়ে আসার একটি প্রকল্প।
স্থানীয় রিকশাচালক নজরুল ইসলাম জানান, রমজান মাস যেন আল্লার রহমত! বাজারের অর্ধেক দামে চাল, ডাল, তেল কিনে নিয়ে যাচ্ছি। রোজার কষ্ট বেশ খানিকটা দূর হবে। খড়কি হাজামপাড়া এলাকার বৃদ্ধা মঞ্জুরি বেগম, যারা এ বাজার বসাইচে আল্লা তাগের ভাল করুক। আর রোজার মাসে যারা বেশি লোভ করে আল্লা তাগের হেদায়েত দিক। সারাদেশে এইরাম ছড়ায়ে গেলি আমাগের মতোন গরিব মানষির কষ্ট কোমবে।
আইডিয়া লস প্রজেক্টের সমন্বয়ক হারুন অর রশিদ জানান, আইডিয়ার স্বেচ্ছাসেবীরা মাসব্যাপী জরিপ করে মধ্যবিত্ত ৫৩৭টি পরিবারকে এ প্রজেক্টের আওতায় নিয়ে আসে এবং তাদের মধ্যে কার্ড বিলি করা হয়। এখন তারা মাসব্যাপী এখান থেকে বাজার করতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here