জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার,সদস্য ও ইউপি সদস্যর নেতৃত্বে টেন্ডার ছাড়া অভয়নগরে রাস্তার পাশের দুইটি রেইনট্রি গাছ কর্তন

0
221

স্টাফ রিপোর্টার:টেন্ডার ছাড়াই রাস্তার পাশ থেকে লক্ষাধিক টাকার রেইনট্্ির গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। সাবেক যুবলীগ নেতা জেলা পরিষদের সদস্য ও একজন ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে ওই গাছ কাটা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের শাহীনপাড়া রাস্তার পাশ থেকে এ গাছ কাটা হচ্ছে।
গতকাল শনিবার সকালে লেবার সরদার শফিকুল ইসলাম ৮/৯ জন শ্রমিক দিয়ে একটি রেইনট্রি গাছটি কাটার কাজ করছে। এর আগে গত শুক্রবার একটি বড় রেইনট্রি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, যশোরের অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের শাহীনপাড়া রাস্তার পাশে তিনটি রেইনট্রি গাছ ঝুকিপূর্ণ বলে ওই ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল্যাহ মোড়ল জেলা পরিষদ বরাবর আবেদন করেন। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আল মামুন একটি মনগড়া রিপোর্ট তৈরী করে জেলা পরিষদে জমা দেন। কিন্তু জেলাপরিষদ এখনও গাছ কাটার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি বলে জানা গেছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে জেলা পরিষদের সদস্য সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রউফ মোল্যা ও ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ মোড়ল ও সার্ভেয়ার আল মামুন ওই গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
ওই গ্রামের আব্দুল্লা আল মামুন জানান, ‘শুনেছি ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে প্রায় অর্ধশত বছরের পুরানো তিনটি রেইনট্রি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরমধ্যে একটি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। অপর গাছের ডালপালা কাটা শেষ হয়েছে। গাছটির গোড়া প্রায় কাটা শেষ পর্যায়ে। গাছ দুটিতে পাঁচশত মণ কাঠ হবে যার মূল্য লক্ষাধিক টাকা হবে।’
লেবার সর্দার শফিকুল ইসলাম বলেন “ জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুর রউফ মোল্যা ও মেম্বর আব্দুল্যাহ গাছ কাটতে বলেছে তাই কাটছি। আমি শুধু লেবার লাগাইছি।”
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের সদস্য,সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রউফ মোল্যা বলেন, “ গাছ কাটার অনুমতি আছে। তাই গাছ কেটে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।”
জানতে চাইলে যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,‘ রাস্তার উপর তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারনের জন্য স্থানীয় ইউপি মেম্বার জেলা পরিষদে চিঠি দেয়। এরপর সার্ভেয়ার দিয়ে আমরা বিষয়টি জরিপ করি কিন্তু আমরা গাছ কাটার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এরপরও আমাদের একজন সদস্য গাছ কেটে নিচ্ছে বলে শুনেছি। গতকাল শনিবার সকালে টিএনও সাহেব ফোনে অভিযোগ দিলে তাকে গাছ কাটা বন্ধ করতে বলেছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মেজবাহ উদ্দিন বলেন “ প্রতি শুক্রবার ও শনিবার গাছ কাটার অভিযোগ পাচ্ছি। অভয়নগরে কোন গাছ কাটার অনুমতি নেই। তাই গাছ কাটা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here