তিন কিলোমিটার সড়কে ২০ গ্রামের মানুষের যাতাযাত মহম্মদপুরে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ

0
234

মুরাদ হোসেন, মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে : মাগুরার মহম্মদপুরে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নিজের ইচ্ছে মতো কাজ বরছেন বলে জানান স্থানীয়রা। মহম্মদপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওার্ডের বঙ্গেশ^র গ্রামের মোজাম মোল্যার মোড় থেকে দীঘা জোড়া ব্রিজ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং কাজে নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের এই অভিযোগ ওঠে।
এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে উপজেলা সদর ইউনিয়ন, দীঘা ও বাবুখালী ইউনিয়নসহ আশপাশের প্রায় ২০ গ্রামের হাজারো মানুষ। নানা কাজে তাদের উপজেলা সদরে আশার একমাত্র রাস্তা এটি। এছাড়াও পার্শবর্তী জেলা ও উপজেলার লোকজন এলাকার আত্মীয়-স্বজনের বাড়ী আসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই সড়কেই যাতায়াত করে। সেই সড়কে নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহার করায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিত্তবিশ্রাম বাজারের পাশে ট্রাকে করে ইট এনে রাস্তা উপর ঢালছে এবং শ্রমিকরা রাস্তার উপরেই সেগুলো ভাঙ্গে খোয়া তৈরি করছেন। নিম্নমানের এই ইট দেখে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এটা কি রাস্তা হচ্ছে? শুধু শুধু সরকারের টাকা খরচ হচ্ছে। তাদের অভিযোগ সড়কটি নির্মাণে শুভঙ্করের ফাঁকি চলছে, তবে এ নিয়ে কারও কোনো মাথা ব্যাথা নেই।
উল্লেখ্য! “মহম্মদপুরে তিন কি.মি. কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা, বৃষ্টিতে কাদা, রোদে ধুলা ভোগান্তি বারোমাস” শিরোনামে ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরের কাগজে নিউজ প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ বরা হয়- একটি কাঁচা রাস্তার বেহালদশার কারণে বারোমাস চরম দূর্ভোগ পোয়াচ্ছে উপজেলা সদর ইউনিয়নসহ আশপাশের ২০ গ্রামের হাজারো মানুষ। মূলত মহম্মদপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওার্ডের বঙ্গেশ^র গ্রামের মোজাম মোল্যার মোড় থেকে দীঘা জোড়া ব্রিজ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এই কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থা। ইটের সলিং দেয়া থাকলেও তা দীর্ঘদিন হওয়ায় ভেঙেচুরে খানাখন্দে ভরেগেছে। আর তাই শুষ্ক মৌসুমে রোদে রাস্তাটি ধলোময় থাকে এবং বর্ষাকালে কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায়। তখন এই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। অথচ এই রাস্তাটি পাকা করা হলে এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে।
নিউজ প্রকাশের পর খুলনা বিভাগীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সড়ক নির্মাণের বাজেট আসে। নির্মাণ কাজের চুক্তিমূল্য এক কোটি ১৭ লাখেরও বেশ। যার বাস্তবায়নে রয়েছে স্থানীয় এলজিডি বিভাগ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাগুরা রহিমা ট্রেডার্স।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসাইন জানান, নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহার করায় আপাতত কাজ বন্ধ করা হয়েছে। পুনরায় ভালো মানের মালামাল আনলে সেটা দেখে কাজ শুরু করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here