ঝিকরগাছা বিএম হাইস্কলের কোচিং বানিজ্যের টাকায় প্রধান শিক্ষকের বিলাসী জীবন সিন্ডিকেট এর দায়িত্বে শ্যালিকা ভাইপো

0
146

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি॥ যশোরের ঝিকরগাছা বদরুদ্দীন মুসলিম (বি এম) হাইস্কুলের কোচিং বানিজ্যের টাকা জোগাতে অভিভাবকেরা হিমশিম খেলেও সেই টাকায় বিলাসী জীবন যাপন করছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ। তিনি মাত্র ৩৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে ঝিকরগাছা পৌর সদরের উপজেলা মোড়সংলগ্ন জায়গায় কোটি টাকা খরচ করে জমি কিনে ৪ তলা বাড়ি বানিয়েছেন। বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায় প্রতি মাসে শুধু কোচিং থেকেই লক্ষাধিক টাকা, কমিটির বেতনের নামে ৩০হাজার টাকা, কন্টিজেন্সি বাবদ ৫ হাজার টাকা স্কুল থেকে নিচ্ছেন ওই প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে খরচের অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা কাজ না করেই তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে। জামাত ইসলামের কট্টরপন্থী সমর্থক, জামায়াতের সাবেক এমপি মুহাদ্দিস আবু সাইদের খুব কাছের মানুষ। চরম আওয়ামী বিদ্বেষী এই প্র্রধান শিক্ষক সুযোগ পেলেই সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করে বক্তব্য দেন। বর্তমানে ১৬জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন জামায়াত পরিবারের সদস্য খন্ডকালিন শিক্ষক রয়েছে। বি এম হাইস্কুলে তার কোচিং বানিজ্যের মুল সহযোগী হিসেবে আছেন তার ভাইপো বেনজির রহমান এবং বর্তমান চতুথ স্ত্রীর ছোট বোন তাহমিনা খাতুন। ভাইপো বেনজিরের কাছে যে সমস্ত শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ে, স্কুলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক কথা বলতে পারেন না। সম্প্রতি ইভটিজিং এর বলি হওয়া ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনি রায়কে যারা ইভটিজিং করেছিলো তারা বেনজির মাস্টারের প্রাইভেটের ছাত্র। এ সকল ছাত্রদের কোনো শিক্ষক শাসন করতে গেলে বেনজির তার চাচা প্র্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদকে দিয়ে উক্ত শিক্ষককে শায়েস্তা করায়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অশোভন আচরণ দেখলেও মুখ বুঝে থাকতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের বর্তমান স্ত্রীর বোন (আপন শ্যালিকা) তহমিনা খাতুন পূর্বে তার স্বামীর সাথে থাকলেও গত ডিসেম্বরে তাকে স্বামীর কাছ থেকে নিজ বাড়িতে এনে রেখে স্কুলে খন্ড কালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাকে দিয়ে কোচিং এবং অন্য শিক্ষকদের উপর খবরদারী করাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন উক্ত স্কুলেরই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকবৃন্দ। স্কুলে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষিকা থাকলেও তাকে বাদ দিয়ে ৭ম শ্রেণির বি-টু গ্রুপের শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছেন পেশাদারি প্রশিক্ষণ বিহীন শালীকা তাহমিনা খাতুনকে। প্রথমে শ্যালিকাকে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে পরবর্তীতে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন স্কুলের প্র্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ। স্কুলের নিয়মিত শিক্ষক মনিরা পারভিন এর কোচিং ক্লাস কেড়ে প্রধান শিক্ষকের মেয়ে হিসেবে পরিচিত স্কুলের আরেক খন্ডকালীন শিক্ষক রাবিয়া খাতুনকে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিতে নিজের পছন্দের খন্ড কালীন শিক্ষকদেরকে শ্র্রেণি শিক্ষক বানিয়েছেন যেটা নিয়ে স্কুলের নিয়মিত শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যদিও প্রধান শিক্ষকের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, কোচিং থেকে আমি যে পরিমাণ টাকায় নিচ্ছি সেটা আমার পারিশ্রমিক হিসেবে নিচ্ছি। আর তার গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির টাকায় তিনি বাড়ি বানিয়েছেন বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here