তীব্য ক্ষরায় পুড়ছে যশোরের স্বজি খেত, স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে কৃষকের

0
340

ডি এইচ দিলসান : খরায় পুড়ছে যশোরের সবজি খেত। অগীভির নলকুপে নেই লেয়ার। তীব্র তাপ, আর ক্ষরা এবং বৃষ্টির অভাবে শুকিয় মাথা নুইয়ে পড়ছে সবজি গাছ। একই সাথে পুড়ে যাচ্ছে ফুল ও কুশি। যার কারনে ফলন বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। আর সেই প্রভাব পড়েছে সবজির মোকামে। তাই তো মোকাম ফাঁকা। সব ধরনের সবজির দামও চড়া। বৈশাখের শেষে গাছে গাছে এখন ফুল-কুঁড়িতে ছেয়ে গেলেও তীব্র খরায় তা ঝরে পড়ছে। মাঠে মাঠে পুড়ছে সবজি। এতে তপ্ত রোদ্দুরে যেন অঙ্গার হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন!
অন্যদিকে তীব্র তাপদাহ আর অনাবৃষ্টির কারণে পুড়ছে পাটক্ষেতও। তপ্ত রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে পাটগাছ। পাটের আবাদ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকের। পাটের জমিতে ঘন ঘন সেচ দেওয়ায় যেমন বাড়ছে উৎপাদন খরচ, তেমনি প্রচন্ড খরায় জমির আগাছা পরিষ্কার করতে পারছে না কৃষকরা। এ অবস্থায় পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অনাবৃষ্টির কারণে পাটক্ষেত শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পাটগাছ শুকিয়ে বিবর্ণ ও পাতা কুঁচকে গেছে। এ অবস্থায় অনেক কৃষক নষ্ট হওয়া পাটক্ষেতে নিড়ানি দিচ্ছেন না। যশোর সদর উপজেলার বুকভরা বাওড় এলাতার কৃষক ওয়াহিদ মিনা বলেন, গত বছর পাটের ভালো দাম পেয়ে এবার ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। অনাবৃষ্টির কারণে এবার ঘন ঘন সেচ দিতে হচ্ছে। তার পরও পাটগাছ বাড়ছে না। বৃষ্টি না হওয়ায় জমির আগাছা নিড়ানি যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে থোকায় থোকায় পেয়ারা ও আমরা আর জামরুলের ফুল-কুঁড়ি। কেবল পেয়ারা আর আমড়াই নয়, সব ধরনের মৌসুমি ফল ছাড়াও তীব্র খরায় পুড়ছে মিষ্টি কুমড়া, ঢ্যাঁড়শ, বেগুন, পেঁপে, কাঁচকলার বাগান। এপ্রিলের শুরু থেকেই দেখা নেই বৃষ্টির। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো আবাদ।
যশোর সাত মাইল এলাকার সবজি চাষী আইতাল আলী বলেন, আমি ৩ বিঘা জমিতে বেগুন, ২ বিঘা জমিতে পটল আর বেশ কিছু জমিতে লাউ চাষ করেছি। ক্ষরার কারনে পানি দিতে দিতে অতিরিক্ত খরচ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন পানি দিয়েও গাছ বাচাতে পারছি না। ফুল জরে যাচ্ছে। কুশি পুড়ে যাচ্ছে। এদিকে দুপুরে সেচ পাম্পে পানি উঠছে না। সবমিলিয়ে উবয় সংকটে পড়েছি। আইতাল বলেন আমি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করে কৃষি কাজ করি। কিন্তু ক্ষরার কারনে এবার লাভবান হতে পারছি না।
এ ব্যাপারে যশোর কৃষি গবেষনা ইন্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাওসার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্ষেতে আর্দ্রতা ধরে রাখতে বিকেলে সেচ এবং স্প্রে দেয়াসহ কৃষকদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here