শুক্রবার বিকাল ৪টায় যশোর দড়াটানায় মাস্টার ইমান আলী’র স্মরণসভা

0
242

আগামীকাল ২৬ মে ২০২৩ শুক্রবার বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কৃষকনেতা মাস্টার ইমান আলী’র ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রয়াতের মৃত্যুবার্ষিকীতে ঐদিন সকাল ৯টায় ঝিনাইদহ জেলা কালীগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে তাঁর সমাধীস্থলে পুষ্পমাল্য অর্পন, নিরবতা পালন ও শপথ পাঠ পূর্বক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৪টায় যশোর দড়াটানা শহীদ চত্বরে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখবেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয়সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহের নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে জানানো হল।উল্লেখ্য, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে বঙ্গদেশ তথা ভারতবর্ষ যখন উত্তাল তেমনি একটি সময়ে ১৯৩০ সালের ১ আগস্ট যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার কালীগঞ্জ থানার মল্লিকপুর গ্রামে ইমান আলী এক কবিরাজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন কবিরাজ ওয়ারেশ আলী, মা আছিয়া খাতুন। ৭ ভাইয়ের মধ্যে ইমান আলী ছিলেন সর্ব কনিষ্ঠ। ভাইদের মধ্যে মেঝ ভাই ছিলেন কবিরাজ খেলাফত হোসেন, অগ্রজ বেলায়েত হোসেন বৃটিশ বিরোধী রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন। তিনি তৎকালীন বৃটিশ ভারতে মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন মুসলিম ছাত্রলীগের যশোর জেলার প্রতিষ্ঠাতা ছাত্র-নেতাদের অন্যতম ছিলেন। ইমান আলী নিজ গ্রামের মল্লিকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ শেষে যশোর শহরে কবিরাজ খেলাফত হোসেনের বাসায় অবস্থান করে যশোর জিলা স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।তৎকালীন বঙ্গদেশের রাজধানী কলকাতার সাথে যশোরের যোগাযোগ ছিল গভীর। রাজধানী থেকে রাজনীতি তথা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের ঢেউ পূর্ববঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে যশোর শহর মধ্যবর্তী কেন্দ্র হিসাবে ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন সময়ে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল রেলওয়ে। যশোরের সাথে কলকাতার রেল যোগাযোগ ছাড়াও সড়ক যোগাযোগ ছিল। এই সুবাদে যশোরে কংগ্রেস, মুসলিম লীগ এবং কমিউনিষ্ট পার্টির সংগঠনের তৎপরতা ছিল। খড়কীর পীর আবুল খায়েরের জেষ্ঠ্য পুত্র যশোর জিলা স্কুলের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র আবদুল হক নিখিল ভারত ছাত্র ফেডারেশনের বঙ্গীয় প্রাদেশিক শাখার সভাপতি ও তার সংগঠনের প্রভাব, অগ্রজ বেলায়েত হোসেন ও তার সংগঠন মুসলিম ছাত্রলীগের প্রভাব সর্বোপরি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের জোয়ার এবং বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে ইমান আলী বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। এ সময়ে স্কুল জীবনে ৭ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ইংরেজ সাহেবদের বিরুদ্ধাচারণ করায় বৃটিশ সরকারের পুলিশ দ্বারা নিগৃহীত ও নির্যাতিত হন। বৃটিশের এই দমন নীতি ইমান আলীকে সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশ শক্তিকে উচ্ছেদের সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে ও শক্তি যোগায়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ও দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে নয়া উপনিবেশিক ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টির প্রক্রিয়ার সময় তিনি যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন। তে-ভাগা আন্দোলনের উত্তাল সময় যশোর (বনগাঁ) কে কেন্দ্র করে ২৪ পরগনা, নদীয়া (বৃহত্তর কুষ্টিয়াসহ), খুলনা এবং সংলগ্ন এলাকাতে কমিউনিষ্ট পার্টির নেতৃত্বে বর্গা চাষীদের তে-ভাগা প্রতিষ্ঠার দাবীতে সর্বাত্মক আন্দোলন বিস্তৃতি লাভ করে। এ অবস্থায় ইমান আলী কৃষক আন্দোলন ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রভাবে প্রভাবিত হন। ’৫০ এর দর্শকের শুরুতে পাকিস্তান সিভিল সাপ্ল¬াই বিভাগে সাব-ইন্সপেক্টর পদে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু ১৯৫২ সালে তিনি আর এ দায়িত্বে থাকতে পারেন না। এই চাকুরী হারানোর পরপরই একই বছরে তিনি পাবলিসিটি অফিসার হিসাবে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন।কৃষক ও জনদরদী স্বাধীনচেতা ইমান আলী প্রগতিশীল রাজনৈতিক মনোভাব এবং সরকারী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালনে স্ব-বিরোধীতা তাঁর কর্মজীবনকে বাঁধাগ্রস্থ করে। নবীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং এর বিপরীতে কমিউনিষ্ট আন্দোলনের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিউনিষ্ট বিরোধী পাকিস্তান সরকারের সর্বাত্মক তৎপরতায় ইমান আলীর মতো নবীণ সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং অভিযোগ এনে ১৯৫৪ সালে এই চাকুরী থেকে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। সময়টা ছিল যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময়, এই নির্বাচনে কারাবন্দি কমরেড আবদুল হক কমিউনিষ্ট পার্টির একমাত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে সমর্থ হয়।ইমান আলী কর্মজীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারী চাকুরীর চেষ্টা না করে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে আত্ম-নিয়োগ করেন। গৃহশিক্ষকতা দিয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। প্রথমে তিনি কারবালা এবং পরে খড়কী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এ সময় তিনি প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকুরী সরকারীকরণের আন্দোলনে অগ্রণী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।অবশেষে ১৯৭০ সালে মাহমুদুর রহমান হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসাবে ১৯৯০ সালের ৮ই আগস্ট শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।সরকারী চাকুরী ত্যাগের পর শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি গণমানুষের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এদেশের প্রগতিশীল কৃষক আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হিসাবে তিনি ১৯৬০ এর দশকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাকে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে উগ্র বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের এবং সংশোধনবাদের (মস্কোপন্থী) বিরুদ্ধে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ধারাকে অগ্রসর করার প্রেক্ষিতে কমরেড আবদুল হকের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি এবং মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাথে সংগঠিত থেকে ভূমিকা গ্রহণ করেন। এ প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সামরিক শাসক স্বৈরাচারী আয়ুব খান সরকার এবং তার প্রভু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম অগ্রসর করতে যেয়ে ১৯৬৯ সালে কেশবপুরে জনসভায় সম্প্রদায়িক শক্তি জমায়াতে ইসলামীর আক্রমণের শিকার হন।১৯৬৯ এর গণআন্দোলনে যশোরে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে তিনি যশোরের মাটিতে থেকে বিপ্লবী ও গণতান্ত্রিক শক্তির লড়াই ও যুদ্ধকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন। ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সৃষ্টির পর আওয়ামীলীগ ও শেখ মুজিবের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষক সমিতি এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির নেতা হিসাবে শিক্ষকদের দাবী দাওয়া এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে অগ্রসর করতে ভূমিকা রাখেন। এ প্রেক্ষিতে হাইস্কুল শিক্ষকদের দাবী আদায়ের আন্দোলনে ১৯৭৫ সালে গ্রেফতার হয়ে ১ বছর কারাভোগ করেন।১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনায় সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ মুজিব পরিবারকে স্ববংশে হত্যা করে মার্কিনের দালাল প্রথমে খন্দকার মোস্তাকের এবং পরে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী সরকার আমলে বিশ্বাসঘাতক মশিউর রহমান চক্রের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিকে রক্ষা করা এবং ১৯৭০ সালে স্থগিত হয়ে যাওয়া পূর্ব-পাকিস্তান কৃষক সমিতি পুনরাবির্ভাব হিসাবে কৃষক সংগ্রাম সমিতি গঠনে জনাব মাহমুদুল হক মনি পীরের সাথে উদ্যোগী-অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৯ সালে ১৭ই ডিসেম্বর কৃষকনেতা মাহমুদুল হক মনি পীরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ১৯৮০ সালের ২৪ ও ২৫ জানুয়ারী কৃষক সংগ্রাম সমিতির কালীগঞ্জ সম্মেলনে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। এ সময়ে সংশোধনবাদী তিন বিশ্ব তত্ত্বের প্রভাবে নুরুল হুদা কাদের বক্স-বিমল বিশ্বাস গং এদেশের প্রগতিশীল বিপ্লবী গণতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তিকে স্বমূলে উৎপাটিত করার আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত তিন বিশ্ব তত্ত্বের পক্ষাবলম্বন করলে এর বিরুদ্ধে বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তি ও ধারাকে রক্ষা এবং অগ্রসর করার সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মাষ্টার ইমান আলী কৃষক সংগ্রাম সমিতিকে এগিয়ে নিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করেন। এ প্রেক্ষিতে ১৯৮১ সালে ৪ঠা এপ্রিল যশোরের রাজঘাটে শ্রমিক অঞ্চলে শ্রমিক শ্রেণীর অভূতপূর্ব সহযোগিতায় কৃষক সংগ্রাম সমিতির ২য় সম্মেলনে সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকে ব

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here