পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্নহত্যা

0
171

রাসেল মাহমুদ : যশোর সদর উপজেলার হাটবিলা গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্নহত্যা করেছে নয়ন হোসেন (২৭) নামের এক যুবক। সে ওই গ্রামের শাখারীগাতী রাস্তার মাথা নামক স্থানের ডাবলু বিহারীর ছেলে। জানাযায়, আত্নহননকারি যুবক নয়ন বহুদিন ধরে পারিবারিক ও মানুষিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে প্রায় প্রতিদিন’ই কিছুনা কিছু নিয়ে মা-বাবার সাথে খুটিনাটি লেগেই থাকত তার। ঘটনার দিনও নয়ন’কে তার মা-বাবা মারপিট করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নয়নের পিতা ডাবলু মারপিটের কথা স্বিকার না করলেও বৃহস্প্রতিবার রাতে তাদের ছেলের সাথে ঝগড়াঝাটি হয়েছে বলে জানান। তিনি আরো বলেন পিতাপুত্রের বাকবিতান্ডের এক পর্যায়ে তোর মতন ছেলে থাকার চেয়ে না থাকায় ভালো এমনটাই বলেন। এক পর্যায়ে ওই রাতে নয়ন তার নিজ ঘরে ঘুমাতে চলে যায়। পরদিন শুক্রবার সকাল গড়ালেও নয়ন ঘুম থেকে না ওঠায়। পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করতে থাকে। কোনো সড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে পান ঘরের মধ্য সে ঝুলে রয়েছে। এসময় তাদের ডাকচিৎকারে নিকটজনেরা ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকে দেখতে পান ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্নহত্যা করেছে নয়ন। তবে এটা আত্নহত্যা নাকি হত্যা তা নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে লোকসমাজে। একাধিক ব্যক্তি জানায় নয়নের মাথা সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে মারের ক্ষত দাগ রয়েছে।
নয়ন প্রায় ৩ বছর পূর্বে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বিয়ে করেন। সংসার জীবনে তাদের দেড় বছর বয়সের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে’ই কারনে-অকারনে শাশুড়ির নানা অত্যাচারে কিছুদিন পূর্বে স্বামী সংসার ছেড়ে কোলের শিশু সন্তানকে নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যেতে বাধ্য হয় নয়নের স্ত্রী। ঘটনার সংবাদ পেয়ে নয়নের স্ত্রী ছুটে আসে স্বামীর বাড়িতে। তার ধারনা নয়নকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। কারন তার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারের দাগ রয়েছে। আত্নহত্যা করলে কারোর শরীরে দাগ থাকার কথা নয়। তার দাবীর প্রেক্ষিতে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা নয়নের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here