সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ প্রভাবশালী ভাটা মালিক শহিদুল অবৈধ জমির দখল নিতে না পেরে নিরীহ ব্যক্তিদের নামে মিথ্যা মামলা করছে বলে অভিযোগ

0
172

চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি॥ নিজের জমিতে প্রাচীর দেওয়াই কাল হলো যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের নিরীহ শাহা আলম তরফদারের।প্রভাবশালী শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তার নামে করেছেন ৫ শত ট্রাক মাটি চুরির মামলা। আদালত মামলাটির সঠিক তদন্ত করে যশোর পিবিআইকে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।শহিদুল ইসলাম উক্ত জমিটি অবৈধভাবে দখল নিতে না পেরে জমির মালিকের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন বলে বুধবার চুড়ামনকাটি প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শাহ আলম তরফদার। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সুষ্টু তদন্তের জন্য দাািব করেন।
লিখিত অভিযোগে শাহ আলম বলেন, গত ০৬/০৩/২০২৩ইং তারিখে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ১৫নং বাগডাঙ্গা মৌজা যার এস এ দাগ নং-৩১৫১ ও ৩১৪৯ আর এস-৭১১৩ ও ৭১৪৩ থেকে দাতা নাজিম উদ্দিন, নাছিম উদ্দিন, সাইফুল,জহির হাসান ও রহিমা বেগমের কাছ থেকে কবলা রেজিস্ট্রি মূলে ১১.৫ শতক জমি ক্রয় করি আমি। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে বাগডাঙ্গা মৌজায় ৩শতক জমি ডিসিআর নিই। অদ্য সময় হতে ওই জমি আমি ভোগ দখলে আছি।
তিনি আরো বলেন, আমার ক্রয়কৃত জমিতে অবৈধভাবে জমির প¦ার্শে অবস্থিত সহিদুল ব্রিকস এর স্বত্তাধীকারী সহিদুল ইসলাম তার ভাটায় ব্যবহৃত মাটি ফেলে রাখে।আমি তাকে মৌখিক ভাবে তার মাটি আমার ক্রয়কৃত জমির উপর থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য একাধিক বার অনুরোধ করা স্বত্বেও তিনি মাটি সরাননি। উল্টো ওই জমি আমার না বলে বিভিন্ন সময় হুমকি দেয়। এছাড়াও উক্ত জমি শহিদুল ইসলাম নিজের দাবি করে ১৪৪ ধারা জারি করেন। আদালত যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। পুলিশ তদন্ত করে ও উভয়ের কাগজপত্র দেখে উক্ত জমির মুল মালিক শাহা আলমকে তার জমিতে সকল কার্যক্রম চালানোর পক্ষে নির্দেশ দেন। এরপর আমি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমার ক্রয়কৃত জমির উপর থেকে এস্কোভেটর দিয়ে শহিদুলের রাখা মাটির স্তুপ সরিয়ে ফেলি এবং আমার ক্রয়কৃত জমির চর্তুপাশে প্রাচীর দিই।
আমি গত ০৪/০৭/২০২৩ইং তারিখে স্থানীয় একটা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, আমার ক্রয়কৃত ওই জমির মালিক নাকি ওই ভাটার স্বত্বাধীকারী সহিদুল ইসলাম এবং ওই জমির উপর থেকে তার ভাটায় ব্যবহৃত স্তুপ করা ৫০০ ট্রাক মাটি আমি চুরি করে নিয়েছি।এ সংক্রান্ত বিষয় সহিদুল বাদী হয়ে যশোর কোর্ট আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেছেন আমার বিরুদ্ধে। মামলায় আসামী করা হয়েছে আমি সহ আমার ছেলে সজীব ও মিরাপুর গ্রামের আক্তার হোসেনকে। পরে আমি খোঁজ নিয়ে মামলার সত্যতা জানতে পারি।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন আমার ক্রয়কৃত জমির উপরে সামান্য মাটির স্তুপ রাখলেও মামলায় উল্লেখ করেছেন ৫০০ ট্রাক মাটি আমি সরিয়ে ফেলেছি। ৫০০ ট্রাক মাটি আমি কিভাবে সবার নজর ফাঁকি দিয়ে সরিয়ে ফেললাম। তিনি আরো বলেন, প্রভাবশালী শহিদুল ইসলাম আমার জমিটি অবৈধভাবে দখল নিতে মরিয়া।তিনি দখল নিতে না পেরে আমার নামে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহ আলমের পক্ষে মামলার অপর আসামী আক্তারুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, শাহ আলম, ইউপি সদস্য তহিদুল ইসলাম, বি এম ফিরোজ হোসেন, ব্যবসায়ী আব্দার রহমান, আসাদুজ্জামান বিষু, মিজানুর রহমান, মামুন তরফদার প্রমূখ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here