ঘটনা ও গ্রেফতারের বিবরণঃ ইং ১০/০৭/২০২৩ তারিখ বিকাল ১৭:৩০ ঘটিকার সময় কোতয়ালী মডেল থানাধীন তেঘরিয়া সাকিনে নতুনহাট পাবলিক কলেজের বিপরীত পাশে যশোর-বেনাপোল গামী মহাসড়কের দক্ষিন পার্শ্বে বর্গাচাষী জনৈক মকবুল হোসেন এর পাটক্ষেত থেকে অনুমান ৩৬ বছরে ১জন যুবকের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে মৃতদেহটি ইং ০৮/০৭/২০২৩ তারিখে ইজিবাইক চালক বুলবুলের আত্মীয়স্বজন নিহত বুলবুল হোসেন (৩৬), পিতা-মৃত শেখ আঃ রশিদ, সাং-কচুয়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোর হিসেবে সনাক্ত করে এবং নিহতের ভাই ফরহাদ হোসেন জানায় তার ভাই ফরহাদ হোসেন গত ইং ০৮/০৭/২০২৩ তারিখ বিকাল অনুমান ১৮.০০ ঘটিকার সময় রাজারহাট থেকে ভাড়ায় চালিত ইজিবাইক নিয়ে যশোর শহরের উদ্দেশ্যে বাহির হয়ে ঐ দিন রাতে না ফিরলে তার মোবাইল নাম্বারে ফোন করে বন্ধ পায়। খোজাখুজি অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে পাটক্ষেত উদ্ধারকৃত মৃত দেহটি সনাক্ত করে নিহতের ভাই ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় এজাহার দায়ের করলে কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৩৭ তাং-১১/০৭/২০২৩ ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
মামলাটি খুবই চাঞ্চল্যকর ও ক্ললেস হওয়ায় জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয়ের দিক নির্দেশে ওসি ডিবি রুপন কুমার সরকার, পিপিএম (বার) এর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম সঙ্গীয় পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে এসআই শফি আহম্মেদ রিয়েল ও সঙ্গীয় ফোর্সের সমন্বয়ে একটি টিম তদন্তে নেমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের সনাক্ত করে ইং ১১ জুলাই বেলা ১৪:০০ ঘটিকার সময় কোতয়ালী মডেল থানাধীন শংকরপুর বাবলাতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম বুলবুলকে ডেকে নেওয়ার মোবাইল নম্বর ও মোবাইলসহ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ০৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে তাদের স্বীকারোক্তি মতে শংকপুরে অভিযান পরিচালনা করে তাদের সহযোগী আরো ২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধারসহ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানাধীন দুরমুজখালী সাকিনে অদ্য ইং ১২/০৭/২০২৩ তারিখ ভোরে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের আরো ২ সদস্যকে গ্রেফতার করে ছিনতাই/লুন্ঠিত ইজিবাইকটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইজিবাইক ছিনতাই/লুন্ঠনের উদ্দেশ্যে আসামীগণ পরস্পর যোগসাজসে চালক বুলবুল হোসেনকে ইং ০৮/০৭/২০২৩ তারিখ বিকাল ১৮:০০ ঘটিকার সময় মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ভাড়া করে মনিহার থেকে উঠে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এবং রাস্তায় জুসের সাথে চেতনা নাশক খাইয়ে অচেতন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে গভীর রাতে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ পাটক্ষেতে ফেলে গুম করে এবং ইজিবাইকটি নিয়ে সহযোগী আসামীদের হেফাজতে রেখে বিক্রির উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা যাওয়ার পথে হেফাজতে রাখার সহযোগীরা পথি মধ্যে ছিনতাই নাটক সাজিয়ে ইজিবাইকটি পুনরায় হত্যাকারী ছিনতাইকারীদের নিকট থেকে নিয়ে সাতক্ষীরা শ্যামনগরে রাখে।
আসামীর তথ্যঃ১। মোঃ এসার আলী (৩১), পিতা- মোঃ ছাত্তার আলী গাজী, মাতা- মোছাঃ আকলিমা বেগম,সাং- পুরাখালী, থানা-শ্যামনগর, জেলা-সাতক্ষীরা বর্তমান ঠিকানা-শশুর ইউসুফ শেখ এর বাড়ী, শংকরপুর বাবলাতলা, থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোর।
২। মাহমুদ ওরফে মামুন (৩৮), পিতা- মৃত আঃ রহমান, মাতা- শুকরন, সাং- ছিলমপুর, থানা-কালনা, জেলা-নড়াইল বর্তমান ঠিকানা- জনৈক মামুন এর বাসার ভাড়াটিয়া, শংকরপুর ইসাহাক সড়ক, থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোর।
৩। শুকুর আলী (২০), পিতা- শহর আলী, মাতা- জবেদা বেগম, সাং- শংকরপুর মেডিকেল কলেজপাড়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোর।
৪। জুয়েল (৩৮), পিতা- মৃত মকসেদ, মাতা-শেফারী বেগম, সাং- শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ পশ্চিমপাড়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোর।
৫। হৃদয় (২৩), পিতা- নুর ইসলাম, মাতা- লালমতি, সাং-শংকরপুর জমাদ্দারপাড়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোর।
৬। আকবর গাজী (২৮),
৭। ইব্রাহীম গাজী (২৪), উভয় পিতা- মোঃ নজরুল গাজী, মাতা- আছিয়া বেগম, সাং-নয়কাঠি, থানা-শ্যামনগর, জেলা-সাতক্ষীরা।
উদ্ধারকৃত আলামতঃ
১। ছিনতাই/লুন্ঠিত ইজিবাইক ১টি।
২। হত্যাকাজে ব্যবহৃত গামছা, উড়না।
৩। আসামীদের ব্যবহৃত মোবাইল-০৩টি ও সীম।
৪। হত্যাকাজে ব্যবহৃত নমুনা আলামত জুস ও চেতনা নাশক ঔষধ। “বাংলাদেশ পুলিশের শপথ-দেশের মানুষকে রাখবো নিরাপদ, সত্য উদঘাটনে বদ্ধ পরিকর, যশোর জেলা পুলিশ”















