যশোরে খেলার মাঠ নেই ২২৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

0
234

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : যশোর জেলার ২২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। শিক্ষার পাশাপাশি বিনোদন ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব ফেলে। সংকীর্ণ জায়গা ও নানা জটিলতায় বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। খেলাধুলার ব্যবস্থা না থাকলে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটানো সম্ভব নয়। সবচেয়ে কম বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ আছে শার্শা উপজেলায়। যশোর শহরের বেজপাড়া আজিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫২ সালে। মাত্র ১১ শতক জমির ওপর প্রথমে টিনশেডের ঘরে শুরু করা হয় পাঠ কার্যক্রম। এরপর ২০১৮ সালে এলজিইডির অর্থায়নে দ্বিতল ভবন করা হয়েছে। সেখানে রয়েছে মাত্র তিনটি ক্লাসরুম। দুই শিফটে ক্লাস করে ১৯০ জন শিক্ষার্থী। প্রধান শিক্ষকসহ মোট শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন। বিদ্যালয়টিতে নেই খেলার মাঠ। যে কারণে ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের কেউ খেলাধুলা করতে পারে না। ঝিকরগাছা উপজেলার নওয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৭৮ সালে। ২৩ শতক জমির ওপর স্থাপন করা হয় বিদ্যালয়টি। ১৬১ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন ছয়জন শিক্ষক। এ বিদ্যালয়েও নেই খেলার মাঠ। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, জমি না থাকার কারণে আমাদের এখানে খেলার মাঠ নেই। তবে যতোটুকু খালি জায়গা রয়েছে সেখানে স্লিপার ও দোলনা বসিয়ে শিক্ষার্থীদের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। আর পাশে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বল্প পরিসরে খেলার মাঠ আছে সেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা খেলতে যায়। খেলাধুলার ব্যবস্থা না থাকলে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটানো সম্ভব নয়। শুধু ওই দুটি বিদ্যালয় নয়, যশোরে খেলার মাঠ নেই ২২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক হাজার ২৯০। এর মধ্যে স্বল্প পরিসরে মাঠ রয়েছে ২৪৮টি বিদ্যালয়ে। এ উপজেলায় ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ। এছাড়া সদর উপজেলায় ৪৫টি, চৌগাছায় আটটি, অভয়নগরে ১৪টি, মণিরামপুরে ৪৪টি, বাঘারপাড়ায় ৩৩টি, ঝিকরগাছায় ৯টি ও কেশবপুরে ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম খেলাধুলা। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা ছাড়াও সমাবেশ আয়োজন ও শ্রেণীকক্ষের বাইরে পাঠদানের জন্য প্রয়োজন হয় মাঠের। যদিও দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সাড়ে ১০ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই কোনো খেলার মাঠ নেই। এর মধ্যে যশোরে রয়েছে ২২৬টি বিদ্যালয়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, খেলার মাঠ ছাড়া একটি বিদ্যালয় কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না। তাই খেলার মাঠ ছাড়া কোনো বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন নয়। আর যেসব অনুমোদিত বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় খেলার মাঠ স্থাপন করা প্রয়োজন। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহসান হাবীব বলেন, লেখাপড়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো খেলাধুলা। যে বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটবে না যদি কর্তৃপক্ষ বিকল্প উপায়ে খেলাধুলা না করায়। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবশ্যই খেলার মাঠ থাকতে হবে। যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, জেলায় এক হাজার ২৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে নতুন ভবন সম্প্রসারণ, স্থানান্তরসহ নানা কারণে জমিস্বল্পতায় ২২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে খেলার মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয়ে মাঠ করার সুযোগও নেই। এরই মধ্যে যেসব স্কুলে খেলার মাঠ নেই, আমরা সেসব স্কুলের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here