এইচ এম জুয়েল রানা স্টাফ রিপোর্টারঃ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৪নং দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্যামনগর ও বিপ্রকোনা দুই মৌজায় অবস্থিত শ্রীনদী দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারী (ভূমি) অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ মৃতপ্রায় শ্রীনদীটি জনসাধারণ বিভিন্নভাবে দখল করে আছে। কিছুটা অংশ জলাশয় থাকায় স্থানীয় দরিদ্র এলাকাবাসী যে যার মত মাছ শিকার ও গবাদি পশুর জন্য খাদ্য সংগ্রহ করে থাকে। হঠাৎ স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল তা আবারও দখলে নিয়ে মাছ চাষ শুরু করছে। অথচ অনেক আগেই প্রশাসনিকভাবে নদীটিকে উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। অন্তত প্রশাসনের এ ধরনের ঘোষণা থাকার পরও নদী দখল নিয়ে মাছ চাষের ঘটনায় এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগকারীরা জানান,শ্যামনগর গ্রামের শওকত আলী গাইন ও বিপ্রকোনা গ্রামের নিছার আলী ,সেলিম হোসেন, শ্রীনদীর উন্মুক্ত জলাশয় দখল করে মাছ চাষ করছে। অন্যদিকে,পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।পাশাপাশি,অত্রাঞ্চলের বন্যা জনিত সৃষ্ট পানি অপসারণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।এছাড়াও যেসব জেলেরা মাছ শিকার করে নিজেদের জীবিকা আহরণ করত,তারা তাদের অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছে।পরিশেষে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আহবান জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম হোসেনের সাথে কথা হলে সত্যতা স্বীকার করে বলেন,আমি ও শওকত আলী গাইন গত সপ্তাহে অনেক টাকার মাছরে পোনা ছেড়েছি। শুধু আমি একা এ নদীতে মাছ চাষ করছি না।এখানে আরো অনেকে ছোট ছোট পুকুর করে মাছ চাষ করছে।
এ ব্যাপারে মণিরামপুর সহকারি কমিশনার (ভূমি) আলী হাসান জানান, সরকারি খাল ও নদী দখল করে মাছ চাষ বা অন্যকিছু করার সুযোগ নেই। যদি কেউ করে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন,শ্যামনগর ও বিপ্রকোনা দুই মৌজার শ্রীনদী দখলের বিষয়ে স্থানীয়দের একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। সরকারি খাস জমি ও নদী দখল করে কেউ মাছ চাষ করতে পারেন না। অভিযোগটি যাচাই করে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















