অভয়নগরে নূরবাগ-মশিয়াহাটী সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ;চলমান কাজে ধীর গতি

0
276

মিঠুন দত্ত: যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার নূরবাগ মশিয়াহাটী সড়কের নির্মাণ কাজের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসড়কে প্যালাসাইডিং কাজে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়াও কাজ চলছে শম্ভূক গতিতে। জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়ার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এক শতাংশ কাজও হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে কাজের অগ্রগতি ১০ শতাংশ দেখানো হয়েছে। কাজ শুরুর আগেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ বিল প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, নওয়াপাড়া নূরবাগÑমশিয়াহাটী সড়কটি দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ার কারণে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১১ সালের পর আর রাস্তাটি সংস্কার হয়নি। সাত দশমিক তিনশত কিলোমিটার সড়কের ছয় কিলোমিটারের দুইপাশে মাছের ঘের থাকার কারণে রাস্তা ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গত অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, যশোর রাস্তার দরপত্র আহবান করে। পল্লীযোগাযোগ প্রকল্পের আওতায় (আরসিআইপি) নওয়াপাড়া নুরবাগ-মশিয়াহাটী সড়ক এবং শংকরপাশা খেয়াঘাট থেকে নড়াইল ফুলতলা আরএইচডি সড়কে মোট ১২ কিলোমিটার কাজের প্রাক্কলিত মুল্য ২১ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬৯ টাকা। প্রাক্কলিত ব্যয়ের ১ কোটি ৪১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬০ টাকা বেশী দরে ঢাকার মনিপুরের,মিরপুর এলাকার এম এ এইচ কনস্ট্রাকশন লি: এবং মেসার্স মৈত্রী বিল্ডার্স (জেভি) লিড পার্টনার আনোয়ারা আক্তার আখি মনি কাজটি পান। গত বছর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী ৫২৬৩ নম্বর স্বারকে ৩০/১১/২২ তারিখে কার্যাদেশ প্রদান করেন। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২০২৪ সালের ৩০ মের মধ্যে কাজটি শেষ করতে বলা হয়। এরমধ্যে মশিয়াহাটী সড়কটি নির্মাণ দৈর্ঘ্য ৭ দশমিক তিন কিলোমিটার এবং শংকরপাশা সড়কটি ৪ দশমিক সাতশত উননব্বই কিলোমিটার। দরপত্রে ২ হাজার ৭৮০ মিটার প্যালাসাইডিং করার কথা বলা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তাটির ডুমুরতলা ও সুজতপুর এলাকায় মাত্র একশত সত্তর মিটার প্যালাসাইডিং কাজ করা হয়েছে। ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক ইটভাটা থেকে ট্রাকে করে আনা খুবই নিম্নমানের খোয়া ও অন্যান্য মালামাল দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ষ্টিল সাটার দিয়ে সেন্টারিং করার নিয়ম থাকলেও নিম্নমানের কাঠদিয়ে সেন্টারিং করা হয়েছে। ঢালাই আকাবাকা হয়ে যাচ্ছে।
ডুমুরতলা গ্রামের শিবপদ বিশ্বাস বলেন “ গত সাত মাসে কাজের যে অগ্রগতি তাতে মনে হয় সাত বছরেও এ কাজ শেষ হবে না। কাজের মান নিয়ে কিছুই বলার নেই। সব মালামাল নিম্নমানের। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।”
সরখোলা গ্রামের ভ্যানচালক মোশারফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে আসি। রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। যে খোয়াদিয়ে ঢালাই দিচ্ছে তা খুই খারাপ। কেউ দেখার নেই।
ঠিকাদারের প্রতিনিধি আব্দুল্যা আল মামুন বলেন, ভাটা থেকে কিছু খোয়া নিম্নমানের দিয়েছে। ওই খোয়া কাজে ব্যবহার করবো না। আমাদের পর্যাপ্ত ষ্টিল সার্টার না থাকায় কিছু কাঠ ব্যবহার করছি। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
উপজেলা প্রকৌশলী এস এম ইয়াফি বলেন, কাজের ভবিষ্যত নিয়ে শংকিত। অগ্রগতি সর্বনিম্ন ১০ ভাগের কম দেয়া যায় না তাই ১০ ভাগ দিয়েছি। আর আমি যে টাকা বিল দিয়েছি তা প্রকল্পের বিধি অনুযায়ী দিয়েছি। ঠিকাদারকে যে টাকা বিল দেয়া হয়েছে, সে টাকা জামানত হিসাবে জমা আছে। সাইডে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নিতে বলেছি ও ষ্টিল সাটার দিয়ে সেন্টারিং করার কথা বলেছি। তা না হলে কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here