নড়াইল প্রতিনিধি ঃ নড়াইল সদর উপজেলার দেবভোগ নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সেই বহুল আলোচিত নিয়োগ পরিক্ষা আজ ২৯ জুলাই শনিবার সকাল ১০ টায় নড়াইল সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘ দিন ধরে প্রার্থীদের নিকট হতে দরকষাকষির এক পর্যায়ে ৩ টি পদে ৩৬ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল বিশ্বাস প্রার্থীদের নিকট হতে পূর্বেই টাকা নিয়ে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। বিষয়টি সর্ব মহলে জানাজানি হলে অনেক মেধাবী চাকুরী প্রত্যাশীরা আবেদন করেনি। আবেদনের কোরাম পূরণ করতে নিজেরাই প্রতিটি পদে ৩ টি করে আবেদন করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগ করার পর ও অদৃশ্য কারনে জেলা প্রশাসক কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নাতি ছেলে রাহুলকে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তার নিকট হতে ১০ লাখ নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক গোপাল বিশ্বাস, পরিছন্ন কর্মী পদে শেখহাটি গ্রামের সবুজ শেখ ও নৈশ্য পহরী পদে, সন্জিত দাসের ছেলে সজিব দাস নিয়োগ দেওয়া হবে৷ সাজানো এই নিয়োগ বোর্ডের সর্বমহল ম্যানেজ করতে মোটা খামের ব্যাবস্থা আছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ডিজির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ডকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে পরিক্ষার দিন তারিখ ধার্য করা হয়েছে। শনিবারে সাজানো এই নিয়োগ বোর্ডে নাম মাত্র পরিক্ষা হয়ে ফলাফল সীটে সাক্ষর করানো হবে। আর সম্মানীর নামে ধরিয়ে দেওয়া হবে মোটা খাম।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচিত সদস্য মনিমোহন বিশ্বাস বলেন,সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজশে গোপনে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেবেন। তাদের এহেন অপকর্মে বাধা দিলে প্রধান শিক্ষক নড়াইল শহর থেকে ভারাটে মাস্তান এনে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। যার ফলে কেউ এ বিষয়ে প্রতিবাদ করছে না। মাস্তানদের ভয়ে অনেকে বিদ্যালয়ে আবেদন করতে সাহস পায়নি।
বহুল আলোচিত এই নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে এলাকায় অভিবাবক ও সাধারন মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।তারা এহেন সাজানো নিয়োগ বোর্ড বাতিল পূর্বক সচ্ছতার সাথে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দেবভোগ নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল বিশ্বাস বলেন, ৩ টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। সভাপতির নাতিকে নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যদি সে পরিক্ষায় পাস ভাল করে তাহলে চাকরি হবে।এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, নাতির চাকরি হবে সেই বোর্ডে নীতিমালা অনিযায়ী আমি থাকব না।ওই বোর্ডে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাখা হয়েছে। সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুলতান মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই, বিষয়টি নিয়ে আমি খোজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।















