মনিরামপুর পানির অভাবে পাট জাগ দেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক।

0
156
জাহিদ মনিরামপুর যশোর:- ঋতু পরিক্রমায় চলছে বর্ষাকাল। কিন্তু বর্ষার রূপ আকাশে ঘন কালো মেঘ, ঝমঝম বৃষ্টি নেই। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত খালবিলে পানি আসেনি ভরেনি গ্রামের কোন ডোবা-নালা, পুকুর। এরই মধ্যে কৃষকরা নতুন পাট কাটা শুরু করেছে। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মনিরামপুর উপজেলার পাট চাষিরা।
বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলার মত প্রতি বছর সোনালী আঁশ নামে পরিচিত পাটের আবাদ করে আসছে মনিরামপুরের  কৃষকেরা। মনিরামপুরে  এ বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। বর্ষার ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় খাল-বিলে পানি না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। তাই বাধ্য হয়ে আশপাশের ক্ষুদ্র জলাশয়, ডোবা ও পুকুরে পাট জাগ দিতে হচ্ছে তাদের। এতে স্বাভাবিক খরচের চেয়ে বেশি খরচ হওয়াসহ পাটের গুণগত মান কমে যাচ্ছে। আর পাটের উজ্জলতার বদলে কালো রং ধারণ করছে।
উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর  ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। এবার ৫হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের আশা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মনিরামপুর  উপজেলার মাছনা গ্রামের পাটচাষি শফিকুল ইসলাম জানান, আমি ১একর জমিতে পাট চাষ করেছি। পাট চাষ করতে আমার ১৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। পাট জাগ দিতে গিয়ে চিন্তায় পড়েছি। কারণ এ বছর পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর, ডোবা, নালায় পানি না থাকায় শ্যালো মেশিন দ্বারা সেচ দিয়ে ডোবা নালা পানি দিয়ে ভরে বাড়তি টাকা খরচ করে পাট জাগ দিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে।
কৃষকরা আরও জানান, এ বছর রোগবালাই খুব একটা না থাকায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। আবার দামও গত বছরের চেয়ে বেশি। এতে পাট চাষে লাভের আশা দেখছেন তারা। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় খাল-বিলসহ বিভিন্ন ডোবা ও নালায় পর্যাপ্ত পানি নেই। এ কারণে কৃষকরা পাট কাটতে পারছেন না। অনেকেই আবার ভারী বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন ডোবা-নালা পানিতে ভরাটের আশায় পাট কাটা শুরু করেছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না পেয়ে পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না।
এদিকে অনেকে বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও মোটর দিয়ে ডোবা-নালায় পানি তুলে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে তাদের বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। আবার অনেকে খাল-বিলে ও জলাশয়ে সামান্য জমাট বাঁধা পানিতে পাট-জাগ দিচ্ছেন। এ অবস্থায় ভালো ফলন হলেও লোকসান গুণতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
মনিরামপুর উপজেলার ১৩নং খানপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারার কারণে বৃষ্টির জন্য জমিতেই রেখে দিয়েছি।
কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলার উৎপাদিত পাটের অর্ধেক কাটার উপযোগী হয়েছে এবং বাকি পাট ১৫-২০ দিন পর কাটার উপযোগী হবে।
মনিরামপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার   ঋতু রাজ সরকার  জানান, এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় খালে-বিলে পর্যাপ্ত পানি নেই। তাই কৃষকরা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। পাট চাষের উপকারিতা হচ্ছে যে পাটের ঝরে পড়া পাতা জমিতে পচে জৈব সার তৈরি হয়। ফলে জমির উর্বরতা বেড়ে যায়। পরবর্তীতে যে কোনো ফসল করলে তার ভালো ফলন ভালো পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, জমি থেকে অনেক দূরে বহন করে নিয়ে পাট জাগে ফেলতে হচ্ছে। এতে করে পাট উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু পাটের ন্যায্য দাম পেলে চাষিদের লোকসান গুণতে হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here