আবুবক্কর সিদ্দিক: চলতি বছরে প্রচন্ড তাপদাহ, ভরা বর্ষা মৌসুমেও বর্ষার রূপ আকাশে ঘন কালো মেঘ, ঝমঝম বৃষ্টি নেই। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত খালবিলে তেমন পানি আসেনি, ভরেনি নদনদী। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাঠের খাল,নালা ডোবায় তেমন পানি জমেনি। এরই মধ্যে কৃষকরা সোনালী আঁশ পাট কাটা শুরু করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে সেই সোনালী আঁশ পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন যশোরের শার্শা উপজেলার পাট চাষীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশই জমিতে পড়ে রয়েছে পাট। বৃষ্টির আশায় পানিতে ডুববে খাল নালা.ডোবা। সেই আশায় অনেকে পাট কাটা শুরু করেছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে সেই কাটা পাট বোঝা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাস্তায়। কেউ কেউ পানির অভাবে নিচু জায়গায় জমে থাকা সামান্য পঁচা পানিতে জাগ দিচ্ছেন পাট। এতে ফলন ভালো হলেও পাটের আঁশ সোনালি না হয়ে কালো রঙের ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে। এগুলোর বাজারমূল্য সোনালি আঁশের থেকে অনেক কম হওয়ায় ভালো দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের ছোট নিজামপুর গ্রামের কৃষক মোঃ শাহাজান শিকদার জানান, জলাশয়ে পানি না থাকার কারণে সড়কের খাদে জমা পঁচা পানিতে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। কম পানিতে জাগ দেওয়া পাটের আঁশ কালো ও চটাচটা হয় বলে জানান। তিনি আরো জানান, পাটের ফলন এবার ভালো হলেও প্রয়োজনীয় পানির অভাবে ভালো আঁশ ও দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তার মত অনেক কৃষক।
উপজেলার একাঝালার শুকুর আলী, মোঃ দিন ইসলাম, শরিফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন পাটচাষী জানান, বিঘা জমিতে ৭ থেকে ৮মণ পাট উৎপাদিত হয়। আগে পাট রোপন থেকে পাট থেকে আঁশ বের করতে খরচ হতো ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। চলতি বছরে সার সেচসহ সবকিছুর খরচ বেড়ে চলতি বছর ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পযর্ন্ত হচ্ছে। তাই বাজারে পাটের নায্য মূল্য না পেলে আমাদের এবার লোকসান পড়তে হবে। এতে পাট চাষে আগ্রহী হারাবে অনেক কৃষকরা। শার্শা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তরুন বালা বলেন, বৃষ্টি কম হওয়াতে পাট পচাতে কৃষকের একটু সমস্যা হচ্ছে ঠিকই। তবে গত কয়েক দিনে বৃষ্টির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে, যাতে করে কৃষকের সমস্যা অনেকটা লাঘব হচ্ছে। তাছাড়া বৃষ্টির পানি কম হলেও কৃষি অফিস থেকে পানি সাশ্রয়ী উপায়ে অর্থাৎ রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে কৃষকদের পাট পচানোর পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাট অধিদপ্তর থেকে রিবোন রেটিং মেশিনের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে।















