যবিপ্রবিতে মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে উন্নয়ন, নাকি ধ্বংস চায় : ডা. দীপু মনি

0
442

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা উন্নয়ন চায়, নাকি ধ্বংস চায়। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে হলে জনগণকে নৌকার পক্ষেই রায় দিতে হবে। শনিবার সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্রের নামে তারাই মায়া কান্না করছে যারা যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় এনেছিল, কার্ফূ দিয়ে সরকার চালিয়েছিল। যারা বিচার হতে দেয়নি, যারা হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দেয়। আর মানবাধিকারের নামে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধী সেই পরাশক্তি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্যে বলেন, উনারা রাতের অন্ধকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের অনুসারীদের দিয়ে উপাচার্যের কক্ষ দখল করেছিল। তারা সবকিছু তাদের হিসাব দিয়ে বিবেচনা করে। যারা নর্দমার কিট তাদের নজরটাও নর্দমায় থাকে। যারা শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল, যারা শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্র নিয়ে এসেছিল তারাই সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে অমর্যাদাকর বক্তব্য দিতে পারে। যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ এইচ এমন আহসান হাবীব। এছাড়াও বক্তব্য দেন, যবিপ্রবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবিব প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেন, যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, কারফিউ দিয়ে দেশ চালিয়েছে, যারা রাজনীতি বলতে ষড়যন্ত্রই বোঝে, সেই গণতন্ত্র হত্যাকারী মানুষ হত্যাকারীরা এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলছে। কিন্তু জনগণের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কী, তা সহজেই অনুমেয়। আজ তারা আবারও ষড়যন্ত্রে নেমেছে। কিন্তু জনগণ সত্যিকারের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তারা উন্নয়ন চায়, জনগণ সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে। তাই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের হোতা, আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের সাথে জনগণ নেই। জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় তাদের আন্দোলনের কোনো ইতিবাচক ফলাফল নেই। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি, যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে, পাকিস্তানি অপশাসন টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছে, দেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতা রুখতে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করছে, লাখ লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে, লুটতরাজ করেছে; তারাই একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পচাত্তরের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে। ডা. দীপু মনি বলেন, পচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর হত্যার বিচার চাওয়ার পথও রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। ওই খুনীচক্র ২১ বার বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এই চক্র ও তাদের দোসরা একাত্তরে পাকিস্তানের পক্ষে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছে, ৭৫এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর তাণ্ডব চালিয়েছে। তারাই এখন গণতন্ত্রের কথা বলে; মানবাধিকারের কথা বলে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের বিশ্বাস করে না। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আবারও সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেয়ার; আমরা গণতন্ত্র-উন্নয়ন চাই; না, দেশকে সেই অত্যাচার নির্যাতনের দিকে ফিরিয়ে নিতে চাই। সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হবে। জনগণ নিশ্চই গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থে নৌকার পক্ষে থাকবে। অনুষ্ঠানে পাঁচশতাধিক দরিদ্র মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এবং মেডিকেল ক্যাম্পে তিন হাজার নারী পুরুষকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here