যশোর বিমানবন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয় অসৎআচারণ ও অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সহকারী শিক্ষক শফিকুজ্জামান সাময়িক বরখাস্ত !

0
410

যশোর অফিস : ক্ষমতার অপব্যবহার, অসৎআচারণ ও অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে অভিযুক্ত যশোর বিমানবন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুজ্জামানকে পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তাকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি (টিআর) থেকেও অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার হালদার জানান। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং সহকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হয়।
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর শফিকুজ্জামান শফিক বিমান বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ওই বছরের ২ অক্টোবর রোজ শুক্রবার জাতীয় দৈনিক অগ্নিশিখা ও স্থানীয় দৈনিক সমাজের কাগজে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে সম্পূর্ণ নিয়ম বর্হিভূত ভাবে শফিকুজ্জামানকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন তৎকালীন গর্ভনিং বডি। ওই সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর বিভিন্ন কায়দায় ম্যানেজ হয়ে ওই নিয়োগের বৈধতা দেন। যা নিয়ে সে সময় স্থানীয় পত্র পত্রিকায় ব্যাপক লেখালেখি হয়।
এদিকে স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর বিশেষ কৌশলে শফিক হয়ে ওঠেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের “ প্রিয় পাত্রে” । যার সুবাদে স্কুলে নবাগত হয়েও বাগিয়ে নেন ম্যানেজিং কমিটির টিআর এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটি। বিশেষ কায়দায় শফিকুজ্জামান সরকারী বিধিবিধানকে পাশ কাটিয়ে ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারী এমপিওভুক্তি লাভ করেন।
প্রধান শিক্ষকের বিশেষ আস্তাভাজন হওয়ায় শফিক হয়ে ওঠেন স্কুলের দন্ডমুন্ডের কর্তা। যার কথায় স্কুলের প্রবীন শিক্ষক কর্মচারীরা পর্যন্ত তঠস্ত থাকতেন সব সময়। শফিককে ছাড়া প্রধান শিক্ষক যেন অচল এমন একটা ভাব গড়ে ওঠে বিদ্যালয়ে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে শফিক ধরাকে সরা জ্ঞান ভাবতে শুরু করেন। তিনি স্কুলের প্রবীন ও সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে শুরু করেন চরম দূর্ব্যবহার। যার একটা অডিও ক্লিক এই প্রতিবেদকের হস্তগত হয়েছে। ওই অডিও ক্লিপে শফিক স্কুলের দুই জন সিনিয়র শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও তিরস্কার করছেন। যা নিয়ে স্কুলের সাধারণ শিক্ষক কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের আনুকুল্য থাকায় শফিক স্যারকে কেহ কিছু বলার সাহস দেখাননি। এরই মধ্যে চলতি বছরের ১ জুলাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পুর্ণমিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শফিকের সাথে স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দারুন মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে শফিকুজ্জামান শফিকের হস্তক্ষেপে ওই পুর্ণমিলনী অনুষ্ঠানটি পন্ড হতে বসে। তিনি অনুষ্ঠানের জন্য স্কুলের চেয়ার টেবিল, বেঞ্চ এমনকি বৈদ্যুতিক সংযোগ পর্যন্ত দিতে অস্বীকার করেন। যা নিয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তারা শফিকুজ্জামানের অপসারন দাবি করে মানববন্ধনের মতো কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হয়।
এক পর্যায়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে শফিকুজ্জামানের নিয়োগবিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সে সময় বহু অভিভাবক নানা রকম তথ্য দিয়ে আন্দোলনরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরকে সহায়তা করেন। এসব তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে থলের বেড়াল বের হয়ে আসে। এক পর্যায়ে প্রমানিত হয় স্কুলের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের যে বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের কথা বলা হয়েছে তা জাল ও ভূয়া। প্রকৃত পক্ষে ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর রোজ শুক্রবার প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক অগ্নিশিখা পত্রিকার মুল সংখ্যায় যশোর বিমান বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। ওই একই তারিখে স্থানীয় দৈনিক সমাজের কাগজ পত্রিকা পাবলিষ্টই হয়নি। অথচ ওই সমাজের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপন বলে শফিকুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে দৈনিক সমাজের কাগজের সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, আমার পত্রিকা দৈনিক সমাজের কাগজ প্রতি শুক্রবারে বন্ধ থাকে। এটা মাননীয় তথ্যমন্ত্রী মহোদয়ও জানেন। পত্রিকার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত দৈনিক সমাজের কাগজ পত্রিকা কোন শুক্রবারেই বের হয় না। তাহলে এই পত্রিকার ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর রোজ শুক্রবারের সংখ্যায় কিভাবে যশোর বিমান বন্দর স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলো তা সম্পাদক হিসেবে আমার জানা নেই।
এদিকে বিমানবন্দর স্কুলের আন্দোলনরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ সম্প্রতি অবৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুজ্জামানের অপসারনের দাবিতে সিভিল এ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও এ্যাডমিন, দুদকের চেয়ারম্যান ও সচিব, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, স্কুল পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও যশোর জেলা দূর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন। একই সাথে তার নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্চ করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ।
এদিকে স্কুলের সহকারী শিক্ষক শফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে স্কুলের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকবৃন্দ ফুসে উঠলে টনক নড়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের । তারা সম্প্রতি এক সভা করে জরুরী ভিত্তিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দূর্নীতি, স্বজপ্রীতি ও সহকর্মীদের সাথে অসদাচারনের দায়ে অভিযুক্ত শফিকুজ্জামানকে বিদ্যালয়ের পাঠদান থেকে শুরু করে সব রকমের কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এরও আগে শফিককে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্যদের টিআর ( শিক্ষক প্রতিনিধি) এর পদ থেকেও অপসারন করা হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুজ্জামান বলেন, সে ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের সব রকম কর্মকান্ড থেকে সাময়িক বিরত রেখেছেন। নিয়োগ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুজ্জামান বলেন, কিভাবে আমার নিয়োগ হয়েছে তা তো আমার জানার কথা নয়। ও সবই জানেন প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষক শফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বর্তমান শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এবং স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষক কর্মচারী অভিযোগ তোলায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রহনের প্রাথমিক স্তর হিসেবে তাকে বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ সকল কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here