এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি : সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এ এস এইচ কে সাদেকের ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর)। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে পর পর দুই বার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কেশবপুরের নিজ বাসভবনে সকাল ৭ টায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এ এস এইচ কে সাদেক ১৯৩৪ সালের ৩০ এপ্রিল যশোরের কেশবপুর উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে এই গুনী ও কীর্তি সন্তানের জন্ম গ্রহণ। তার পিতার নাম ইয়াহিয়া সাদেক (যুগ্ম কমিশনার), মাতা আসগারুন্নিসা সাদেক। ০৭ ভাই ও ০২ বোনের মধ্যে সাদেক ৩য়। তিনি ১৯৪৯ সালে হেয়ার স্কুল, কলকাতা থেকে এস.এস.সি, ঝঞ, ঢ’ধারবৎং ঈড়ষষবমব থেকে ১৯৫১ সালে এইচ.এস.সি ও ১৯৫৪ সালে বি.এ (সম্মান) অর্থনীতি, ১৯৫৫ সালে (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়) এম.এ (অর্থনীতি) সাফ্যলের সাথে পাস করেন এছাড়া ১৯৭০-৭১ সালে যুক্তরাজ্যের নাফিল্ড ফাউন্ডেশন ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেলোশিপ লাভ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সি.এস.পি) ক্যাডারে যোগদান করেন। ১৯৫৯-৬১ পর্যন্ত মহাকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬-৬৭ সালে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও ১৯৬৯-৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান গর্ভনরের সচিব হন, তিনি প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দীন আহমদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরবর্তীতে তিনি স্বাধীনতার সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় সহযোগীতাসহ দেশে, বিদেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি সর্বশেষ দেশের জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ স্বেচ্ছায় চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে রাষ্ট্র তথা আন্তর্জাতিক ভাবে নানা স্বীকৃতে তিনি ভুষিত হন। কর্মক্ষেত্রে স্বমাহিমায় উদ্ভাসিত সকল প্রকার লোভ লালসার উর্দ্ধে থেকে সততার পরাকাষ্ঠায় নক্ষত্রের মতো এক কর্মযোগী মানুষ ছিলেন এ এস এইচ কে সাদেক। তিনি অন্তরে যা লালন করতেন, বিশ্বাস করেতন, ব্যক্তিজীবনে তা বাস্তবে প্রতিফলনের চেষ্টা করতেন। তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার প্রয়সে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বাসিত হয়ে একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৯২ সালে বঙ্গবন্ধু আদর্শের রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মনোনিত হন। সল্প সময়ের ব্যবধানে দলীয় রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকায় মুগ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে যশোর- ৬, জাতীয়- ৯০ কেশবপুর আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেন এবং তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এ আসন থেকে জয় লাভ করেন। ৯৬ সালের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তার প্রচেষ্টায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তার সময়ে কেশবপুরে সড়ক, অবকাঠামো, স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের অভাবনীয় উন্নয়নের কারণে তাকে কেশবপুরের উন্নয়নের কারিগর বলা হয়ে থাকে। ২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তার কেশবপুরস্থ বাসভবনে সকাল ৭ টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৭৩ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে বিশেষ ভূমিকার জন্য ২০১০ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়। মরহুম সাদেক ও ইসমাত আরা সাদেক ব্যক্তিগত জীবনে দু’টি সন্তানের জনক-জননী। পুত্র তানভীর সাদেক (কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার), মেয়ে নওরীন সাদেক (স্থপতি)। তাঁর স্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক যশোর-৬ (কেশবপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ১০ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় তাঁকে প্রথমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান জানান, শনিবার বেলা ১১ ঘটিকায় উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।















