মিঠুন দত্ত: যশোর-খুলনা মহাসড়কে দফায় দফায় সড়ক সংস্কারের কাজ করলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবহন ও যাত্রীদের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। সংস্কার কাজের জন্য সৃষ্ট ধুলাবালু অতিষ্ঠ করে তুলেছে সড়কের দুই পাশের বাসিন্দাদের। প্রায় বছর খানেক আগে যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হয়। কিন্তু পুনঃনির্মাণ কাজের সুফল মেলেনি। সড়কটিতে পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় আবারও খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়। চলতি বছরের জুনে আবারও যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই ৩৮ কিলোমিটার সড়কের ৩ দশমিক ৯৩০ কিলোমিটার ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। জানা গেছে, গত ২০১৮ সালের মে মাসে যশোর খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার সড়কের পুনঃনির্মাণ কাজ শুর হয়। ২০২০ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজে ধীরগতির কারণে ২০২২ সালের মাঝে শেষ করেণ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন । এসময় পুনঃনির্মাণ কাজে ব্যয় হয় ৩২১ কোটি টাকা। তবে এই কাজ শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় আবারও খানাখন্দের সৃষ্টি হয় এই সড়কটিতে। স্থানীয়রা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতে সড়কের অবস্থা পূর্বের মতো হয়ে গেছে । এরপর সড়কে সৃষ্ট খানাখন্দ ঢাকতে জোড়াতালির কাজও করা হয়।
আলীপুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, যদি সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে কাজ করা হতো তাহলে সরকারের ৩২১ কোটি টাকা জলে যেত না। কাজে ফাঁকি দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্টরা। আর এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যশোর-খুলনা মহাসড়কের দীর্ঘ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চলতি বছরের জুন মাসে ৪১ কোটি টাক ব্যয়ে খুলনা মোজাহার কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩ দশমিক ৯৩০ কিলোমিটার সড়কের ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেছে। যা আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। ।
চেঙ্গুটিয়া এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, দফায় দফায় কাজ করা হচ্ছে, তাও আবার জোড়াতালি। তাতে কোনো সুফল আসছে না। যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ উদ্যোগও কতটুকু সুফল বয়ে নিয়ে আসবে তা নিয়েও হতাশ আমরা।
ট্রাকচালক শুকুর আলী বলেন, এই সড়ক পুনঃনির্মাণের পর ফুলে ফেঁপে উঠেছিল। গাড়ি চালাতে গেলে ঢেউয়ের মতো রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতো বার কাজ করা সত্তেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না শুধ ভোগান্তিই পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, যশোর-খুলনা মহাসড়কের নওয়াপাড়া থেকে বসুন্দিয়া, রুপদিয়া পর্যন্ত কয়লা ও অনান্য ভারী বস্তু বহন ও ওভার লোডিংয়ের কারণে আগের পুনঃনির্মাণ করা সড়কটি ফুলে ফেঁপে ওঠে এবং খানাখন্দের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, যশোর-খুলনা মহাসড়কে ২০২২ সালে শেষ হওয়া পুনঃনির্মাণ কাজের পর ওভার লোডিংয়ের কারণে আবারও রাস্তা ফুলে ফেঁপে ওঠে। আমরা চলতি বছর বুয়েটের একজন শিক্ষকের গবেষণা অনুযায়ী এবং ইঞ্জিনিয়ারদের গবেষণা অনুযায়ী ৩৮ কিলোমিটার সড়কের প্রথম পর্যায়ে ৩ দশমিক ৯৩০ কিলোমিটার সড়কের ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেছি। আগামী বছরের মে মাসে এটি শেষ করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। এরপরের ধাপে বাকি অংশ ঢালাইয়ের কাজের জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি, তবে সেটি এখনো অনুমোদন হয়নি। আমরা আশা করছি এবারে এ সড়কের একটি স্থায়ী সমাধান মিলবে।















