শিক্ষা কর্মকর্তা বললেন টাকাপয়সার লেনদেন ওপেন সিক্রেট চৌগাছায় বিদ্যালয়ের পাঁচটি পদে নিয়োগে প্রায় অর্ধকোটি টাকা নেয়ার সিদ্ধান্ত ভয়েজ কল ফাস

0
235

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ চৌগাছার জগদীশপুর-মির্জাপুর ইসমাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫টি শুন্য পদে লোক নিয়োগে প্রায় ৫০ লাখ টাকার অর্থ বানিজ্য করা হবে বলে চুড়ান্ত করা হয়েছে। নিয়োগ দেয়াকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এদিকে নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়ে ভয়েজ কল ফাস হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ ঠেকাতে ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার জগদীশপুর-মির্জাপুর ইসমাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষক, ল্যাব অপারেটর, অফিস সহায়ক, আয়া ও একজন পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগের জন্য গত ২ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞিপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অফিস সহায়ক পদে ১২ জনসহ মোট ২৫/৩০ জন চাকরি প্রত্যাশিরা আবেদন করেন।
বিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, নিয়োগের বিষয়টি চুড়ান্ত করার লক্ষে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সভাপতি আমির হামজা রয়েল, প্রধান শিক্ষক তবিবর রহমান, বিদ্যুৎসাহী সদস্য তারিকুল ইসলাম সাবু এক বৈঠকে মিলিন হন। সেখানে ৫ জন চাকুরী প্রত্যাশীদের নিকট থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৫ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। এরমধ্যে অফিস সহায়ক পদে জগদীশপুর গ্রামের আল আমিন হোসেন ও ল্যাব অপারেটর পদে একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনীত করা হয়েছে এবং প্রত্যেক প্রার্থীর নিকট থেকে সব টাকায় আদায় করা হয়েছে বলে ভয়েজ কলের মাধ্যমে তথ্য তথ্য মিলেছে।
নিয়োগ বানিজ্য নিয়ে সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তবিবর রহমান ও প্রার্থী আলামিনের কয়েকটি ভয়েজ কল ফাস হয়। ভয়েজ কলে উভয়ের কথোপকথনে টাকা আদায় করা হয়েছে তা জানাগেছে। ভয়েজ কলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রার্থী আলামীনকে দেখা করার বিষয়টি বলেন। সেখানে আলামিন জানান, স্যার আপনার সাথে আজকালের মধ্যে দেখা করব। আপনাকে কিছু টাকা দেবানে স্যার।
এছাড়া আরো বলেন, স্যার সভাপতির কাছে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি। পুরোপুরি চাচ্ছে। ভয়েজ কলের কথোপকথনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, সবার কাছ থেকে টাকা কুড়োনো (নেয়া) শেষ। প্রার্থী বলেন, আমারটা বেঁধে ছিল। তাওতো ঠিক করে দিলাম। দুটি ভয়েজ কলে প্রায় ৮ মিনিট কথাবার্তা হয়। সেখানে অর্থ বানিজ্যের বিষয়টি স্পষ্ট উঠে আসে। এই ভয়েজ কল ফাস হবার প্রেক্ষিতে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থবানিজ্যের এমন ঘটনায় বিদ্যালয়সহ এলাকাবাসির মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তবিবর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগের বিষয়ে কোন লেনদেন হয়নি। ভয়েজ কলের বিষয়ে বলেন, অনেক লোকের সাথে আমার কথা হয়। আর আলামিনতো আমার ছাত্র। তার সাথে কিবা কথা বলতে পারি।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমির হামজা রয়েলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগের বিষয়ে কোন বৈঠক হয়নি এমনকি কোনো লেনদেন হয়নি। যারা অভিযোগ দিয়েছে তারা মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছে। ভয়েজ কলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সামনে এনে বলেন টাকা নেয়া হয়েছে কিনা। কলের বিষয় আমি কিছু জানিনা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম রফিকুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা পয়সার লেনদেন ওপেন সিক্রেট, এটাতো সকলে জানে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়েছে। টাকার লেনদেনের বিষয়টি কেউ স্বীকার করেনা। তারপরও আমি মনে করি কোন নিয়োগে টাকা নেয়া উচিৎ না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। তিনি বলেন নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ এখনো চুড়ান্ত হয়নি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here