যশোর-খুলনা মহাসড়কের বুকে জেগে উঠেছে শতশত উচুনিচু ঢিবি; ঝুঁকি নিয়ে চলছে ভারী যানবহন!

0
252

রাসেল মাহমুদ : অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ যশোর-খুলনা মহাসড়কের রূপদিয়া ঈগল পাম্প (ট্রাক স্ট্যান্ড) সহ বিভিন্ন অংশে এখন স্বাচ্ছন্দে সব ধরনের যানবহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পিচকার্পেটিং ফুলেফেপে সৃষ্টি হয়েছে শতশত উচুনিচু পর্বতের! তাই সকল ধরনের যানবহন চলাচল এখন অনেক’টা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এই মহাসড়ক’টি দেশের অন্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম হওয়ায় অন্যান্য বাহনের পাশাপাশি প্রতিদিন ২৪ঘন্টা হাজার-হাজার পণ্যবাহী ছোটবড় যানবহন চলাচল করে এইখান দিয়ে। ২০১৭ সালে সড়কটি’র যশোর অংশের ৩৮ কিলোমিটার পথ নির্মাণে বরাদ্দ দেয় ৩২১ কোটি টাকা। এর মধ্য এখনো অনেক স্থানের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। অথচ এরই মধ্যে নির্মিত অংশের অসংখ্য স্থানে পিচ ফুলেফেঁপে বড়বড় খানাকন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দেখাগেছে অনেক স্থানে পিচকার্পেটিং ডেবে যেয়ে উঁচুনিচু হয়ে বিটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের বুঁকে উচু হয়ে যাওয়া স্থান গুলো যান্ত্রিকযন্ত্র দিয়ে কয়েকদফা কাটিং করলেও ফের সেখানে ফুলেফঁপে চলাচল অনুপযোগী হয়ে যায়। অনেকটা গোজামিল দিয়ে ক্ষতস্থানে পুটিং করে সেদফা দায় সারে। ইতোপূর্বে বহু বছর ধরে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ছিল চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী।
এনিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা লেখালেখি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর নতুন করে এই মহাসড়ক নির্মাণে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেয়।
মহাসড়কটি দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল, গুরুত্বপুর্ণ জেলা যশোর, স্থলবন্দর ভোমরা ও দর্শনা, নদীবন্দর শিল্পশহর নওয়াপাড়া এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌবন্দর মংলা’র সাথে যোগাযোগের প্রধান সড়ক এইটি। টানা প্রায় ৩ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উপর দিয়ে কখনো স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেননি যানবহন গুলো।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের পালবাড়ি মোড় থেকে অভয়নগরের রাজঘাট পর্যন্ত মোট ৩৮ কিলোমিটার এই মহাসড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। দুটি প্যাকেজে ৩২১ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ডিসেম্বরে। সড়কের প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিলো সাড়ে ৬ কোটি টাকা।
এরই মধ্যে নির্মিত ৮ কিলোমিটার রাস্তায় বিটুমিন উঠে ও ডেবে গিয়ে উঁচু নিচু হয়েগেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহার করে গোজামিল দিয়ে নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। যার ফলে কাজ সমাপ্তের পূর্বেই রাস্তার এই বেহাল অবস্থা। যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, নতুন রাস্তা কেন ডেবে গেল তার কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যে একজন পরামর্শক নিযুক্ত করা হয়েছে। সড়কের বিষয়ে খুটিনাটি জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়’কেও। আমরাও তদন্ত করে দেখছি। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ডিসেম্বর করা হয়েছে। যার মেয়াদ ছিল ২০২০ এর জুন মাস পর্যন্ত। তবে ধারনা করা হচ্ছে ওভারলোডের কারণেই মহাসড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত লোড হওয়ায় যশোর-খুলনা মহাসড়কটি এখনই এমন দশায় পতিত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here