মণিরামপুরে শাহ মান্দার পীরের আস্তানায় দীর্ঘ ৮’শ বছর ধরে মানত করে মানুষ উপকৃত হচ্ছে

0
165

মোন্তাজ আলী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: সে দীর্ঘ ৮’শ বছর আগের কথা। মণিরামপুর উপজেলার কাটাখালি পাঁচবাড়িয়া গ্রামের মাঠের মধ্যে এক গভীর জঙ্গল ও ভয়ংকার জায়গা ছিল। সেখানে বাঘ, শুকর, শিয়াল, সাপসহ বিভিন্ন হিংস্র প্রাণীর বসত ছিল। ঔ জঙ্গলের মধ্যে ছিলো বড় একটি মান্দার গাছ। মান্দার গাছে গোড়ায় একা একা বসত করতো একটি লোক। গ্রামের মানুষ বিষয়টি জানতে পেরে তার সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতেন। এক পর্যায় এলাকার মানুষ জানতে পারে তার নাম শাহ্ মান্দার রহমতুল্লাহ আলাইহি সুফি সাধক পীর। শাহ্ মান্দার পীর এক বছর ঔখানে আস্তা গেড়ে থাকার পর এলাকার লোকজন তাকে আর কোন দিন সেখানে দেখতে পাইনি। সেখান থেকে ওই জায়গার নাম দেওয়া হয় শাহ্ মান্দার তলা পীরের আস্তানা। সেই থেকে বিভিন্ন গ্রামের মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন কোন বিপদে পড়লে বা কোন রোগে আক্রান্ত হলে শাহ্ মান্দার পীরের আস্তানায় এসে মানত করতো। সমস্যা সমাধান হওয়ার পরে তারা আবার সেখানে গিয়ে মানত দিয়ে আসে। গত রোববার শাহ্ মান্দার তলা পীরের আস্তানায় গিয়ে দেখা যায়, মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ খালি বোতল, সরিষার তেল, বোতল ভরে গরুর দুধ নিয়ে আস্তানায় আসে ভক্তরা। আগত ভক্তরা প্রথমে আস্তানার পাশে সানবাঁধা পুকুরে সবাই হাত-পা ধুঁয়ে পবিত্র হয়ে বোতল ভরে পানি নিয়ে আস্তানায় যায়। সেখানে শত বছরের একটি নিম গাছ আছে, যার গোড়ার বেড় হবে অনুমান ৪০ ইঞ্চি। নিম গাছের গোড়ায় দু’হাত মতো চিরা আছে, সেখানে ভক্তরা দুধ ঢেলে দিয়ে পানির বোতল গুলো গাছের চারপাশ রেখে ভক্তরা কাপড়ের আচঁল পেতে ঘন্টার পর ঘন্টার বসে মনের বসনা পুরনের জন্য বসে থাকে। পরে তারা উঠে পাশে আর একটি বট গাছে ইটের আঁধলা লাল সুতা দিয়ে বেঁধে মনের আশা পুরনের জন্য বাড়িতে চলে যায়। তাদের মনের আশা পূর্ন হওবার পর তারা মানত দেওয়ার জন্য ছাগল, হাঁস, মুরগি ছাড়াও অনেকে ছাগল জবাই করে রান্না করে সবাইকে খাওয়ায়। এই শাহ্ মান্দার তলায় ভক্তরা আসে প্রতি ররি ও বৃহস্পতিবার। আর বিশেষ করে যেসব মহিলাদের সন্তান হয়না, বালা-মছিবত, হামলা-মামলাসহ মানব দেহেরে বিভিন্ন রোগের জন্য মানুষ বুক ভরা আশা নিয়ে আস্তানায় আসে। সেখানে কথা হয় ফুলবাড়ি গ্রামের পরবর্তী বিশ্বাসের সাথে তিনি বলেন, আমার একটি গভীর পেটের মধ্যে কয়েটি বাচ্ছা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি শাহ্ মান্দার পীরের আস্তানায় এসে মানত করে গিয়েছিলাম। তার দোয়ায় আমার গরুর সুন্দর একটি বাচুর হওয়ার পর দুধ এনে মানত দিচ্ছি। পাঁচবাড়িয়া গ্রামের কার্ত্তিক রায় জানায়, আমার স্ত্রী অনিমা রায়ের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় তার পা দুটো পেচানো অবস্থায় পৃথিবীতে আসে। সে কারণে আমার স্ত্রী সন্তানকে ঠিক মতো বুকের দুধ পর্যন্ত খাওয়াতো না, বসে বসে শুধু কান্নাকাটি করত। আর আমার মা পারুল রায় বলতো বউমা তুমি খোকাকে দুধ খেতে দাও খোকা দেখবে ভাল হয়ে যাবে। এভাবে এক মাস পার হয়ে যায়। বাচ্ছাকে প্রতিদিন আমার মা শাহ্ মান্দার পীরের আস্তানায় নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টার শুয়াই রাখতো আর সেখন কার কাঁদ মাটি বাচ্ছার সারা গায়ে সব সময় লাগিয়ে রাখতো। ভগমান দিনে দিনে আমার বাচ্ছাটার পা ভাল করে দিয়েছে। আমার ছেলের অমিত রায় (২৩)। চাঁদের গায়ে ক্ষত আছে কিন্তু আমার ছেলের গায় কোন খাদ নায়। সে থেকে আমি প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার এখানে আসি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন জানান, সাংবাদিক ভাই শাহ্ মান্দার পীরের কথা বলে শেষ করার যাবে না। এখানে দীর্র্ঘ ৭ ও ৮ শত বছর আগের কথা। আমার বাপ দাদাদের কাছ থেকে শুনে আসছি। আমরা বর্তমানে বাস্তব অনেক কিছু দেখেছি। এখানে বিভিন্ন গ্রাম থেকে মুসলিম ও হিন্দুসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন এসে মানত করে। আমার জানা মতে এখানে যারা সঠিক নিয়ত করে মানত করে তাদের মনের আশা পূর্ন হয়। পাশে একটি পুকুর আছে সে পুকুরে বড় বড় দুটি মাছ ছিল। কিন্তু পাশের গ্রামের কয়েকটি লোক সে মাছ ধরে রান্না করে খাওয়ায় তারা সবাই মারা গিয়েছে। এখন রাতে যদি এই পথ দিয়ে কেউ আসে তার মনে যদি একটু ভয় লাগে তাহলে হঠাৎ তার সাথে এক জন সাথী হয়ে যায়। তাকে বাড়িতে পৌছায় দেওয়ার ঘটনা অনেক আছে। তিনি আরো বলেন, যদি কেউ খারাপ মন নিয়ে এখানে আসে বা আস্তানার কোন কিছু ক্ষতি করার উদ্দেশ্য থাকে তাহলে সে ফিরে যেতে পারে না। এমন একটি পবিত্র জায়গা এটি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here