মনিরামপুর ধানগাছের ডগায় শিশির বিন্দু, প্রকৃতি জানান দিচ্ছে  শীতের আগাম বার্তা

0
163

জাহিদ মনিরামপুর(পৌর) প্রতিনিধিঃ হেমন্ত তার শিশির ভেজা আঁচল তলে শিউলি বোঁটায়,চুপে চুপে রং আকাশ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায়।কবি সুফিয়া কামালের লেখা ‘হেমন্ত’ কবিতায় বাংলার হেমন্তের রূপ নিবিড়ভাবে ধরা দিয়েছে প্রকৃতিতে। পৌষ মাঘ এই দুই মাস শীতকাল ধরা হলেও আশ্বিন কার্তিকের দিকেই গুটি গুটি পায়ে শীতের বার্তা জানান দেয়। আজ সকালে যশোর মনিরামপুর উপজেলার মাঠে গেলে  ধান ক্ষেতে  এমনি দৃশ্য চোখে পড়ে। সারাদিনের একটু গরম শেষে গভীর রাতে থেকে শুরু হছে হালকা হিমেল হাওয়া, সঙ্গে নামছে কুয়াশা। শীতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার আবহমান সংস্কৃতি চর্চাও। শীত মানেই গ্রাম এবং শহরে যেন উৎসব, কবিগান, জারিগান, সারিগান, পুতুলনাচ, সার্কাস, যাত্রাপালা, নাট্যমেলা আরও কত কী। সবগুলোরই আসর যেন পূর্ণতা পায় শীতের রাতে। হেমন্তের আগমনে অনেকটাই যেন শান্ত হয়ে যায় উত্তপ্ত প্রকৃতি। গ্রীষ্ম ও শীতের মধ্যে হেমন্ত অপরূপ এক সেতুবন্ধন। সকালের শিশিরভেজা ঘাস, ভোরে ও সন্ধ্যায় কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রকৃতি। শীতের আগাম সবজি বাগানে কৃষকের হাজারো ব্যস্ততা। কার্তিকের মাঝামাঝি সময়েই সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত শীতল হাওয়া আর বিকাল শেষ হতেই হাল্কা ধূসর কুয়াশা। ভোরে সূর্যের আলো মাখামাখি করে মাকড়সার জালে আটকে পড়ে এক অপরূপ সৌন্দার্য্য তৈরি করে বিন্দু বিন্দু শিশির কণা।বর্তমানে পৃথিবীর আবহাওয়া এতোটাই বদলে গেছে যে, ঋতুর আচরণও পাল্টাতে শুরু করেছে। আঁচ করা কঠিন হয়ে পড়েছে গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা শীতের মতো প্রধান ঋতুর আচরণ। জলবায়ু বিপর্যয় প্রকৃতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এরপরেও বদলায় ঋতু। মনিরামপুর উপজেলায় কয়েকদিন থেকে ভোরে দুর্বাঘাসের মাথায় শিশির বিন্দু ও সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা কুয়াশা জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে শীতের আগাম বার্তা। মাঠে দেখা যায়, সবুজ ঘাসের ওপর ভোরের সূর্যের আলোয় হালকা লালচে রঙয়ের ঝিলিক। দূর থেকে দেখলে মনে হয় প্রতিটি ঘাসের মাথায় যেন মুক্তোর মতো শিশির কণা জমে আছে। গ্রামগঞ্জে শীতের সকালে ঘাসের ডগায় প্রতিনিয়তই দেখা যায় এই শিশির বিন্দু। কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশার সঙ্গে যেন উঁকি মারছে শীত। প্রকৃতিতে এখন এমনই ঋতুবদলের আয়োজন। দোকানিরা শীতের পোশাক উঠাতে শুরু করেছেন। পথের ধারে দেখা মিলছে শীতের পিঠা-পুলির দোকানের। প্রতিবারের মতো এবারও বর্ষার ঘনঘটা শেষ করে কার্তিকের কোলজুড়ে এই শীত। এখন প্রতিটি সকালে দূর্বা ঘাসে কিংবা গাছের কচি পাতায় মুক্তার মতো জ্বলজ্বল করে শিশির বিন্দু। কুয়াশা ভেদ করে পূর্ব দিগন্তে সুর্য মামার উদয়।গ্রাম গন্জের  মাঠ খাল বিলে ও পথে ঘাটে শীতের আমেজ বিরাজ করছে। প্রকৃতির নিয়মে গোটা দক্ষিণাঞ্চলে কার্তিকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছে হাল্কা শীতের আমেজ। সন্ধ্যা ও ভোরে কুয়াশাছন্ন আকাশ আর হাল্কা ঠান্ডা বাতাসে শীতের আমেজ লক্ষ্য করার মতো। যারা মুয়াজ্জিনের ফজরের আযানের ধ্বনিতে ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, তারা দেখতে পারেন কুয়াশার বুকচিরে ভোরের সূর্যোদয়ের এই মনোরম দৃশ্য। গ্রামবাংলার খাল বিলে অববাহিকায় আর গ্রামীণ জনপদে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা কুয়াশা জানান দিছে শীত এসেছে। শীতের আগমনি বার্তায় সর্বত্র শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here