মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুরের মধুপুর বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাসীন হোসেনকে আর্থিক দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি।
জানা যায়, অর্থ আত্মসাৎ, ম্যানেজিং কমিটির কাছে হালনাগাদ হিসাব না দেখানো, মুভমেন্ট খাতা ব্যবহার না করা, শিক্ষক-কর্মচারী, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, সাবেক সভাপতির স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ করা, পুরাতন বই-খাতা বিক্রি করে বিদ্যালয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না করা, চলতি মাসের ৫ তারিখে রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে সরকার ঘোষিত শিক্ষক দিবস পালন না করা, সভাপতির আদেশ অমান্য করে পরিচালনা কমিটির মাসিক মিটিং না ডাকা, সভাপতিকে অপমান করে অশ্লীল ভাষায় কথা বলাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি।
এ ছাড়াও ম্যানেজিং কমিটি চলতি মাসের ৫ তারিখে শোকজ করলে তার জবাব না দেয়াসহ নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে সভাপতি মো. শিমুল গাজীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান শিক্ষক মহসীন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সভাপতি শিমুল গাজী জানান, বেশ কয়েকটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মহাসীন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, যশোর জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক, যশোর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মনিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে প্রধান শিক্ষক মহাসিন বরখাস্ত হওয়ায় গত ১০ অক্টোবর ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য কামরুল ইসলামের বাড়িতে একদল সন্ত্রাসীদের নিয়ে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে এবং ৩টি সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিতে বলে। স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় অস্ত্রের মুখে খুন জখমের ভয় ভীতির প্রদর্শন করিয়া কামরুল ইসলামের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ৩টি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে নেয়। পরবর্তীতে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করিয়া খুন জখমের ভয় ভীতি দেখাইয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষক মহাসিন হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার সিআর নাম্বার ১০১০/২৩
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাসিন হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে এই সব করছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি। বাজার থেকে কিনে আনা ভুয়া রেজুলেশন খাতায় অভিভাবক সদস্যদের জাল স্বাক্ষর করে আমাকে বহিষ্কার করে যা মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন জানে। আমি কোন দিন বহিষ্কার ছিলাম না। আর যে কাগজে জোর পূর্বক স্বাক্ষরের কথা বলা হচ্ছে সেটা সে স্বইচ্ছায় নিজেই স্বাক্ষর করেছেন এখন নাটক সাজাচ্ছেন।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাহাফুজুল হোসেন বলেন, সাময়িক বরখাস্তের অনুলিপি পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।















