মনিরামপুরের কৃষি সমন্বিত তিন ফসল চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চাষী শফিকুল

0
193

রাহাত আলী,মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি : সমন্বিত তিন ফসলের আবাদ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যশোরের মনিরামপুরের চাষি শফিকুল ইসলাম।একই সাথে ওলকচু, হলুদ ও মরিচ চাষ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে,ছয় চালান মরিচ বিক্রি করেই খরচের টাকা উঠিয়েছেন শফিকুল।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবি। নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জোন হিসেবে সমৃদ্ধ একটি জনপদ । এখানকার উৎপাদিত লাউ, পটল, শীম, বেগুন, কলা, করল্লা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মূলা, পেঁপে, মানকচু, ওলকচু, মুখি কচু, মেটে আলু, বরবটি, ঢেঁড়শ, মিষ্টি আলু, ঝিঙা, চিচিংগাসহ বিভিন্ন সবজি সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ অন্ততঃ ২৪টি দেশে সবজি নিয়মিত রপ্তানী হয়ে থাকে।
কৃষি অফিসের তথ্য মোতাবেক চলতি রবি মৌসুমে অন্ততঃ ২হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে
উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ সবক’টি ইউনিয়নে কমবেশী সবজি চাষ হয়ে থাকে। খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়,উপজেলার নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জোন হিসেবে খ্যাত মশ্মিমনগর ইউনিয়নের হায়াতপুর-শাহপুরসহ তৎর্পাশ^বর্ত্তী শয়লা, রামপুর, হাজরাকাটি, পারখাজুরা, নোয়ালী,ভরতপুর, চাকলা,কাঁঠালতলা ও আশপাশের গ্রাম গুলো।
সমন্বিত ফসল আবাদকারি চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি একজন প্রান্তিক কৃষক। আমি উপসহকারী কৃষি অফিসার হাসানুজ্জামানের পরামর্শ মোতাবেক ৪২শতক জমিতে গত এপ্রিল মাসে হলুদ,ওলকচু ও মরিচ ফসলের আবাদ করি।এতে ১৫০০ ওলকচুর মূখী, অন্ততঃ ৮০কেজি হলুদ ও প্রায় ৬০০পিচ মরিচের চারা রোপন করি।এ আবাদে এ পর্যন্ত সবমিলে ৪০হাজার টাকা খরচ হয়েছে।অক্টোবর মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ছয় চালান মরিচ বিক্রি করে খরচের টাকা উঠে গেছে। আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত এভাবেই মরিচ উঠানো যাবে। এছাড়া ১৫০০পিচ ওলকচুর চাকি(বীজ), অন্ততঃ ৭০মন হলুদ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি । উপসহকারি কৃষি অফিসার মোঃ হাসানুজ্জামান বলেন,নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে সমন্বিত ফসল চাষের জন্য চাষি শফিকুল ইসলামকে উদ্ধুদ্ধ করি। তার এই আবাদে সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই সমন্বিত ফসল আবাদে ঝুঁকেছেন।চাষি শফিকুল এখন একজন উদাহরণ,একজন দৃষ্টান্ত। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার অজয় কুমার বিশ্বাস বলেন,চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় অন্ততঃ ২হাজার ৪০০হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষীদের প্রয়োজনীয় নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরী সহায়তা দিয়ে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার বলেন, মনিরামপুর উপজেলা একটি নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য সমৃদ্ধ।এষানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও দেশ বিদেশে রপ্তানী হয় নিয়মিত।উপজেলার পারখাজুরা গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম ওকই জমিতে সমন্বিত তিন ফসল চাষ করে ব্যাপক সফালিতাি পেয়েছেন । ভিন্ন ফসল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষাবাদের জন্য মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা কাজ করছেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here