এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি : কেশবপুরে গরুর ক্ষুরা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রাণি স¤পদ অফিসে গরুর ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। গত ৮ দিনে উপজেলার মূলগ্রামে ২টি, প্রতাপপুরে ১টি, বুড়িহাটি গ্রামে ১টি, মধ্যকুলে ১টি ও ভালুকঘর গ্রামে ১টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে গত এক মাসে এ উপজেলায় প্রায় ৫২টি গরু ক্ষুরা রোগে মারা গেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এর মধ্যে হাসানপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় ওই এলাকার কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণি স¤পদ অফিসের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধের ভ্যাকসিন গত মাসে ফুরিয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই ভ্যাকসিন এসে যাবে।
উপজেলার মূলগ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, গত শনিবার (৪ নভেম্বর) তার একটি বড় এঁড়ে গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। গরুটির মূল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান, তার গরু মারা যাওয়ার দু’দিন আগে ওই গ্রামের ইকবাল সরদারের ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি এঁড়ে গরু ক্ষুরা রোগ হয়ে মারা যায়।
এ ছাড়া গত শুক্রবারে (৩ নভেম্বর) প্রতাপপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের একটি এঁড়ে গরু ও বুড়িহাটি গ্রামের ইকবাল হোসেনের এঁড়ে গরু মারা গেছে ক্ষুরা রোগে। এছাড়া বুধবার (৮ নভেম্বর) মধ্যকুল গ্রামে জাহিদ হোসেনর ১টি ও বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) ভালুকঘর গ্রামের আব্দুর রহমানের ১টি গরু মারা গেছে।
উপজেলার বুড়িহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ দিন আগে তার ৩টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। গরু তিনটির মূল্য আনুমানিক ৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার গ্রামের জিয়ার আলীর একটি, আবুল হোসেনের দুটি, তপল পালের একটি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
উপজেলার টিটাবাজিতপুর গ্রামের মফিজুর রহমান বলেন, সম্প্রতি তার ফ্রিজিয়ান জাতের প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি এঁড়ে গরু ক্ষুরা রোগে মারা গেছে।
উপজেলার বুড়িহাটি-হাসানপুর এলাকার পল্লি প্রাণি চিকিৎসক আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরুর মুখ-জিহবা ও পায়ের ক্ষুরের ভেতর ঘা হয়ে মারা যাচ্ছে। সম্প্রতি হাসানপুর ইউনিয়নে এ রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। গত মাসে (অক্টোবর) ওই এলাকার কৃষকের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি গরু ক্ষুরা রোগে মারা গেছে।
উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের পল্লি প্রাণি চিকিৎসক গোলাম কিবরিয়া মনি বলেন, অক্টোবর মাসে তার এলাকায় গরুর ক্ষুরা রোগ ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। বর্তমানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণি স¤পদ কর্মকর্তা ডাক্তার অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, সম্প্রতি গরুর ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে ৬০ বোতল ভ্যাকসিন পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমানে ভ্যাকসিন ফুরিয়ে গেছে। শীঘ্রই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। কিছুদিন আগে গরুর ক্ষুরা রোগ দেখা দিলেও বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।















