লাউ চাষি তাজ উদ্দীনের সফলতার গল্প

0
173

রাহাত আলী,মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি : ‘লাউ আমার ধ্যান-জ্ঞান,লাউ আমার প্রাণ, লাউ আমার বেচেঁ থাকার অবলম্বন” কথাগুলো বলছিলেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা তাজ উদ্দীন। তিনি একজন প্রান্তিক চাষি। ভিটে বাড়িটুকু ছাড়া জমি-জমা বলতে আর কিছুই নেই তার। বছর পাচেক আগে অন্যের জমিতে দিনমুজরি (কামলা) খেটে কষ্টে সংসার চালিয়ে কিছু টাকা গচ্ছিত করেন তাজ উদ্দীন। অন্যের জমি লীজ নিয়ে লাউ চাষ শুরু করেন তাজ উদ্দীন সেই থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি তার।এবারও শীতের আগে উপজেলার শাহপুর গ্রামের মাঠে ৪২শতক জমি লীজ নিয়ে আগাম হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করেছেন তিনি। প্রায় ৫০দিনের মাথায় লাউ তোলা শুরু করেছেন। আগাম আবাদের কারনে চড়া দামে বিক্রি করতে পারছেন।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবি। নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জোন হিসেবে সমৃদ্ধ একটি জনপদ । এখানকার উৎপাদিত লাউ, পটল, শীম, বেগুন, কলা, করল্লা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মূলা, পেঁপে, মানকচু, ওলকচু, মুখি কচু, মেটে আলু, বরবটি, ঢেঁড়শ, মিষ্টি আলু, ঝিঙা, চিচিংগাসহ বিভিন্ন সবজি সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ অন্ততঃ ২০টি দেশে সবজি নিয়মিত রপ্তানী হয়ে থাকে।
কৃষি অফিসের তথ্য মোতাবেক চলতি রবি মৌসুমে অন্ততঃ ২হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্ততঃ২৫০ হেক্টর জমিতে লাউ এর আবাদ হয়েছে। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ সবক’টি ইউনিয়নে কমবেশী সবজি লাউ এর আবাদ হয়।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়,উপজেলার নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জোন হিসেবে খ্যাত মশ্মিমনগর ইউনিয়নের হায়াতপুর-শাহপুরসহ তৎর্পাশ^বর্ত্তী শয়লা, রামপুর, হাজরাকাটি, পারখাজুরা, নোয়ালী,ভরতপুর, চাকলা,কাঁঠালতলা ও আশপাশের গ্রামের বহু চাষী আগাম লাউ চাষের আবাদ করেছেন।
লাউ চাষি তাজ উদ্দীন বলেন,আমি একজন প্রান্তিক কৃষক। ভিটে বাড়িী ছাড়া আর কিছুই আমার ছিল না। অন্যের জমিতে কামলা খেটে,কিছু জমি লীজ নিই।এরপর লাউ এর চাষ করতে শুরু করি। এবার ৪২শতক জমি লীজ নিয়ে আগাম হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করেছি।লীজ,খরচ-খরচা বাদ-ছাদ দিয়েও ভালো একটা টাকা পাবো বলে আশা করছি। চার চালান বিক্রি করে খরচ-খরচা উঠোই ফেলিছি ।এখন যা পাবো সবই লাভ হবে। লাউ এর আবাদ করে ছয় জনের সংসারে মোটা কাপড়,মোটা ভাত খেয়ে পরে বেঁেচ আছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার অজয় কুমার বিশ্বাস বলেন,চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় অন্ততঃ ২হাজার ৪০০হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্ততঃ ২৫ হেক্টর জমিতে লাউ এর আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরী সহায়তা দিয়ে লাউ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার বলেন, একটি জনপ্রিয় সবজি। লাউ শীতের সবজি হলেও এখন সারা বছরই ফলে। এই সবজি পুষ্টিগুণে ভরপুর। লাউ শরীরের জন্য বেশ উপকারী। লাউয়ের ৯৬ শতাংশই পানি। ফলে নিয়মিত লাউ খেলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ হয়। লাউ রক্তের কোলেস্টেরল ও ওজন কমাতে,জন্ডিস ও কিডনির সমস্যা সমাধানে, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করতে, খাদ্য হজমে লাউয়ের ভূমিকা অপরিসীম। লাউয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা হার্টের জন্য উপকারী। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী সবজি হলো লাউ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here