কামরুজ্জামান লিটন ঝিনাইদহ : দুঃসাহসিক, পরিশ্রমী আত্মপ্রত্যয়ী, এক নাম মোছাঃ রোজিনা পারভীন তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ৩নং সাগান্না ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণ পুর ব্লকের কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার। প্রায় ১৩ বছর ধরে কৃষির সঠিক দিকনির্দেশনা আর কৃষির উন্নত প্রযুক্তিগুলো চাকরির সুবাদে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের কৃষি জমিতে সম্প্রসারিত করে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়ে কৃষকদের প্রসংশায় ভাসছেন তিনি।
জানা গেছে- এই ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার রোজিনা পারভীন প্রথমে ২০১১ সালে ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলায় যোগদান করেন। পরে ২০১৮ সালে যোগদান করেন সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণ পুর ব্লকে।
ইতোমধ্যে কৃষি সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ তার মাঠভিত্তিক কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং এবার চাষীদের শত্রু ইঁদুর দমনে খুলনা বিভাগে প্রথম হয়ে পুরুষ্কার পেতে কার্পণ্য করেননি তিনি । থেমে নেই তার নতুন বিপ্লবের অগ্রযাত্রা। সরকারি দায়িত্ব পালনে নেই কোনো অবহেলা, নেই কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশ পালনে কার্পণ্যতা। সার্বক্ষণিক চিন্তা কৃষি-কৃষক ও কৃষি উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কৃষকদের মাঝে বেঁচে থাকা।
তারই ধারাবাহিকতায়- চলতি বছরের জুন মাসে বিনা মূল্য তার ব্লকে তিনি কৃষকদের মাঝে NASIK RED N-53 জাতের পেঁয়াজের বীজ বিতরণ করেছিলেন। এই পেঁয়াজের বীজ নিয়ে কৃষকরা জমিতে চারা বপন ও রোপন করতে নারাজ ছিল। কিন্তু উত্তর নারায়ণ পুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার রোজিনা পারভীনের সৎ সাহস এবং আধুনিক কৃষির সঠিক দিকনির্দেশনাসহ কৃষির উন্নত প্রযুক্তিগুলো ব্যবহারের পরামর্শ কৃষকদের মাঝে তুলে ধরায় তারা পেঁয়াজ লাগাতে রাজি হয়েছিল। এখন সেই কৃষকরাই প্রসংশা করছেন রোজিনা পারভীনকে।
এবিষয়ে ঐ ব্লকের পেঁয়াজ চাষীআবির হাসান,সোহেল রানা,জমির আলী,জরদ আলীসহ শরিফুল ইসলাম প্রতিবেদক’কে জানান, সুপরামর্শ ও আধুনিক কৃষির সঠিক দিকনির্দেশনা জানা থাকলে সব কৃষি জমিতে ফসল ফলানো সম্ভব। যার দৃষ্টান্ত রেখেছেন আমাদের উত্তর নারায়ণ পুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার রোজিনা পারভীন ম্যাডাম।
এবিষয়ে উত্তর নারায়ণ পুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার রোজিনা পারভীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মা মাটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। গ্রামাঞ্চলের মাটি, সোনার চেয়ে খাঁটি। গ্রামের সহজ সরল কৃষক-কৃষাণীরা অক্লান্ত পরিশ্রমে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে ফসল উৎপাদন করলেও সফলতা অর্জন করতে পারে না, শুধুমাত্র ভিত্তি বা প্রত্যয়িত বীজের অভাবে। তাই আমার মনে চিন্তা ভালোমানের বীজ উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা, এতে কৃষক উপকৃত হবে পাশাপাশি তাদের নিজেদেরও আর্থিক সচ্ছলতা আসবে। তিনি আরও বলেন – সঠিক পরামর্শ ও আধুনিক কৃষির দিকনির্দেশনা জানা থাকলে সব কৃষি জমিতে ফসল ফলানো সম্ভব।















