দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন যশোরে প্রতি কিলোমিটার গাড়ি চলতে খরচ হবে দুই থেকে আড়াই টাকা

0
225

ডি এইচ দিলসান : আজ থেকে দণি-পশ্চিমাঞ্চলের প্রথম বৈদতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনের (ইভি চার্জিং) যাত্রা শুরু হচ্ছে যশোরের খয়েরতলাতে।
এই চার্জিং স্টেশন থেকে ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটে পুরোপুরি চার্জ করা সম্ভব হবে। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ায় এই প্রযুক্তির মাধ্যম্যে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষন থেকে বাচবে আমাদের দেশ অন্য দিকে কমে যাবে পরিবহন ব্যায়। ডিজেলে এক লিটারে গাড়ি চলে ১০ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটার খরচ পড়ে ১৩ টাকা। কিন্তু বৈদ্যুতিক চার্জে গাড়ি প্রতি কিলোমিটার আড়াই টাকার থেকে দুই টাকা ৯০ পয়সায় খরচ পড়বে।
ওজোপাডিকোর সহায়তায় আজ শুক্রবার বিদ্যুৎ , জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব হাবিবুর রহমান এই ফাস্ট চার্জিং স্টেশন উদ্বোধন করবেন। এ সময় তার সাথে আরো উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো: মাহবুবুর রহমান, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এনামুল কবির, ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম মহিউদ্দিন, নির্বাহী পরিচালক শামসুল আলম, প্রকল্প পরিচালক মতিউর রহমানসহ আরো অনেকে।
এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক মতিউর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার করে। আমাদেরও ক্রমান্বয়ে সেদিকে যেতে হবে। ইলেকট্রিক্যাল ভেহিক্যাল চার্জিং গাইড লাইন অনুমোদন হয়েছে। আশা করছি সারাদেশে ইভি চাজিং স্টেশন চালু হয়ে যাবে। ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সব জায়গায় ইলেকট্রিক গাড়ি চলবে। তিনি বলেন ডিজেলে এক লিটারে গাড়ি চলে ১০ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটার খরচ পড়ে ১৩ টাকা। কিন্তু বৈদ্যুতিক চার্জে গাড়ি প্রতি কিলোমিটার আড়াই টাকার থেকে দুই টাকা ৯০ পয়সায় খরচ পড়বে।
তিনি আরো বলেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ হওয়ার পুরো বিষয়টি কাউড বেইজ সফটওয়ার নিয়ন্ত্রিত। মুলাইটিস এনার্জি নামক একটি জার্মান কোম্পানি এই চার্জের সিস্টেম নিয়ে এসেছে যারা ইউরোপ এবং আমেরিকা তে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কম্পানি এর চারজিং পয়েন্ট পরিচালনা ও রণাবেণ করছে। এছাড়া আমাদের দেশে প্রচলিত হুন্ডা, টয়েটার ইলেক্ট্রিক গাড়ি সমূহও এই সিস্টেম এর মাধ্যমে চার্জ করা সম্ভব। এই সিস্টেম এর মাধ্যমে গাড়ি কিভাবে কতখানি চার্জ হলো, চার্জ দিতে কত টাকা খরচ হলো, গ্রাহক তার মোবাইল থেকেই দেখতে পারবেন পুরো বিষয়টি। গ্রাহককে মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবহারকারীকে একটি আরএফআইডি কার্ড দেই। যেটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী তার বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং এক্টিভেট করতে পারবেন। তাছাড়া ব্যবহারকারী এর অ্যাপের মাধ্যমে চার্জার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দেখতে পারবেন।’ আন্তর্জাতিক মানের সাথে চারজিং স্টান্ডার্ডের সুবিধা থাকায় যে কোনো ব্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়িকে রিচার্জ করা সম্ভব হবে ওজোপাডিকোর এই মডেল চারজিং পয়েন্টে। বর্তমানে এটি একটি ২২ কিলোওয়াট এর ভবিষ্যতে আরও মতাসম্পন্ন চার্জার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চার্জিং মেশিনের চার্জারটি যখন গাড়িতে লাগানো হবে, তখন মেশিনটি অথেনটিকেশন পারমিশন চাইবে। সেেেত্র মেশিনে আরএফআইডি কার্ড স্ক্রাচ করে অথবা অ্যাকাউন্টের অ্যাপের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা যাবে। এরপর গাড়ি চার্জ হওয়া শুরু হবে। পেমেন্ট দেয়া যাবে অনলাইনে। তাই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) চার্জিং বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। সারাদেশে ইভি চার্জিং স্টেশন স্থাপন হলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা ও টেকসই উন্নয়ন ল্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার প্রেেিত কার্বন নিঃসরণ ঠেকাতে তেল ও গ্যাসচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। ২০৩৫ সাল থেকে এই ধরনের সব গাড়ি বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। চীনসহ অন্যান্য দেশও নিচ্ছে একই ধরনের উদ্যোগ। ফলে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here