অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলায় শুধু মাদকের টাকা যোগাড় করতে নেশায় আসক্তরা এখন জড়িয়ে পড়ছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে। যুব সমাজের বিরাট একটা অংশ এখন মাদকাসক্তে জড়িয়ে পড়েছে। গ্রাম-গঞ্জে প্রায়ই ঘটছে দিন দুপুরে চুরির ঘটনা। দিন দিন এ অবস্থা যেন বেড়েই চলেছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ছাড়াও সমাজের উঠতি বয়সের অনেকে নেশার টাকা যোগাড় করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এতে করে অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের দুশ্চিন্তা কাজ করছে। অনেক অভিভাবক নেশায় আসক্ত সন্তানদের সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন।
জানা যায়, সন্ধ্যা নামলেই মাদকের আড্ডা বসে উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে। চলিশিয়া ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামতলা এলাকা, পায়রা ইউনিয়নের দত্তগাতি ধোপাদী, সুন্দলী বাজার, আন্ধা বাজার, নওয়াপাড়া ড্রাাইভার পাড়া, রেলস্টেশন বস্তি, নুরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকা, ট্রাক টার্মিনাল, বেঙ্গল বটতলা মোড়, তালতলা রেলস্টেশন এলাকাসহ উপজেলার চেঙ্গুটিয়া ও প্রেমবাগ চায়না বাজার, মশরহাটি ভৈরব সেতু এলাকা, শংকরপাশা, মধ্যেপুর এলাকায় রাতের বেলায় নেশাখোরদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এছাড়াও সিদ্দিপাশা, রাঙ্গার হাট, গোপিনাথপুর, মথুরাপুর, কামকুল, প্রেমবাগ, জিয়াডাঙ্গ, আমডাঙ্গা, পায়রা বাজার, নওয়াপাড়া কলোনি এলাকা, বাফার ঘাট, গোডাউনের পেছনে রেললাইনের উপর, রেলওয়ে কোয়ার্টার এলাকা, প্রফেসর পাড়া, বুইকরা হাসপাতাল এলাকা, রাজঘাটসহ অভয়নগর উপজেলায় মাদক ব্যবসা সেবন সব এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার বর্ণি, হরিষপুর, বাগদাহ, চলিশিয়া, কোটা বকুল তলায় একাধিক মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্য মাদক ব্যবসা করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাদকদ্রব্য বিক্রির স্পটগুলোতে মাঝে মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করলেও কেবল সাক্ষীর অভাবে আইনের ফাঁকফোকরে তারা বেরিয়ে যায়। এরপর আবারও জড়িয়ে পড়ে।
তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতরা কৌশলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যুবক যুবতীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের মরণ নেশা মাদক পৌছে দেয়। ফলে, মরণ নেশা মাদক সেবন করে উঠতি বয়সী কিশোরেরা বিভিন্ন অপরাধ করে সমাজে কিশোর গ্যাং নামে অপরাধ চক্রের আত্মপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। সমাজে কিছু অসাধু ক্ষমতাধর ব্যক্তিরাও রয়েছে সক্রিয় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। যে কারণে ওই সব মাদক ব্যবসায়ীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরেজমিনে দেখা যায়, এসব মাদক ব্যবসায়ীরা ও সেবনকারীরা বড় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে প্রকাশ্য করছে মাদক ব্যবসা ও সেবন।
সচেতন মহল মনে করে, পুলিশের তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জরুরি কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কোমলমতি যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে পড়বে। সম্প্রতি চুরি ছিনতাই হামলাসহ নানাবিধ অপরাধ বেড়ে যাওয়ার কারণ মাদক ব্যবসা ও সেবন। এসব মাদক সিন্ডিকেট শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হবে তা না হলে সমাজে এই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমরা কেউ নিরাপদ নয়।
উপজেলার আজগর হোসেন, জাফর আলী, করিম শেখ, আসলাম হাওলাদার বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা রয়েছে বহাল তবিয়তে। যে কারণে উঠতি বয়সী যুবক যুবতীরা ধ্বংস হচ্ছে, গড়ে উঠছে ছোট-বড় কিশোর গ্যাং, অভিভাবক মহল রয়েছে চরম বিপাকে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে চুরি ছিনতাই করছে।
উপজেলার বাগদাহ গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, আমার ছোট ছেলে আবু হাসান (১৪) মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। তাকে নিয়ে আমি ও আমার স্ত্রী খুবই বিপদে আছি। ঘরের একটা মালজিনিসও নেই ওই ছেলে সব বিক্রি করে ফেলেছে। কিছু বলতে গেলেই তেড়ে আসে মারপিট করতে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আকিকুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মুলে আমার থানার প্রতিটি অফিসার কাজ করে যাচ্ছেন। কোন কিছুতেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমি এই থানায় নতুন যোগদান করেছি। সামনে নির্বাচন সব মিলিয়ে ব্যস্ত থাকলেও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত আছে।















