শার্শার স্বতন্ত্র প্রার্থী লিটনের সহযোগী মোক্তার মেম্বারের আস্তানা থেকে ১০ ককটেল উদ্ধার

0
153

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের শার্শায় নির্বাচন ঘিরে নাশকতা পরিকল্পনার চেষ্টায় স্বতন্ত্র
প্রার্থী লিটনের সহযোগীরা সক্রিয় রয়েছে বলে গুঞ্জন চলছে। ইতোমধ্যে
তার আলামত বোঝা যাচ্ছে। বেনাপোল সীমান্তের ত্রাস, বহু অপকর্মের
হোতা ও একাধিক মাদক মামলার আসামী, প্রার্থী লিটনের সক্রিয়
কর্মী ও ডান হাত খ্যাত মোক্তার মেম্বারের আস্তানা থেকে ১০টি শক্তিশালী
ককটেল উদ্ধারের পর বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যাচার করে ফেরার পর
বিকেলে লিটনের কর্মী মোক্তার মেম্বারের ডেরা থেকে ওই ককটেল উদ্ধার
করে ডিবি ও পোর্ট থানা পুলিশ। নির্বাচনে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ
সব বোমা মজুদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিটন চরম মিথ্যাচার করাকালে সাংবাদিকদের
প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে যায়। অথচ তার লোকজনই বিভিন্ন স্থানে
নৌকার কর্মী সমর্থকদের হুমকি ধামকি মারপিট করছে। কিন্তু তা পাশ
কাটিয়ে বলছে নাকি তার লোকজনের ওপর হামলা হচ্ছে। বোমা উদ্ধারের
ঘটনাসহ হাত কেটে নেয়ার বক্তব্য ভাইরাল ও জামায়াত নেতা মামা দুদুর
ঘাড়ে ভর করে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা কাণ্ডে বেসামাল হয়ে নানা অপপ্রচার
চালাচ্ছে লিটন। যা সচেতনমহল ইতোমধ্যে বুঝে ফেলেছে।
এলাকার সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত ককটেল ত্রাসক্তার মেম্বারের নেতৃত্বে তার ভাইপো জাহাঙ্গীর মোল্লার বিচালিগাদায় লুকিয়ে রাখে। বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ও যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক
দুইটি চৌকষ দল উদ্ধার অভিযানে নামে এবং অবিষ্ফোরিত ১০টি ককটেল
বোমা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় মোক্তার মেম্বার ও মেম্বারের আপন
ভাইপো জাহাঙ্গীর মোল্লা পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই
সাথে মোক্তার মেম্বারের নামে ২টা মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে
জানান পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সীমান্তের ত্রাস মোক্তার মেম্বার (৪৫) যশোর জেলার বৃত্তিআঁচড়া গ্রামের
মৃত ইমাম মোল্লার ছেলে এবং ভাইপো জাহাঙ্গীর মোল্লা তার আপন বড়
ভাই জব্বার মোল্লার ছেলে।
এ বিষয়ে পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার
হাদিউজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আসন্ন দ্বাদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার সকল অপকর্মের হোতা লিটন’ স্বতন্ত্র
প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে
আসার প্রথম দিন থেকে প্রতিরাতে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায়
ত্রাস সুষ্টি করছে সন্ত্রাসী মোক্তার মেম্বার। পুলিশ যে ১০ টি ককটেল
বোমা উদ্ধার করেছে তা সামান্য মাত্র।
তিনি আরো জানান, গত বুধবার রাতে তিনি সহ আওয়ামী লীগের
নেতা-কর্মীরা বৃত্তিআঁচড়া গ্রামে নৌকার প্রচারণী কার্যালয়ে
মিটিং করছিলেন। হঠাৎ বাওড়ের ধারে কয়েকটি তাজা বোমার বিস্ফোরণ
ঘটিয়ে নৌকার মিটিং ছত্রভঙ্গ করে সেসহ তার পোষ্য সন্ত্রাসীরা। যা
নিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মৌখিক অভিযোগ করলে এসআই শংকর
বাবু তদন্তে আসছিলেন। এছাড়া মাত্র মাস খানেক পূর্বে তার বাড়ির
সিড়ির রুমে সংরক্ষণে রাখা ৪০টি তাজা বোমার আচমকা বিষ্ফোরণ
ঘটে এবং সিড়ির রুমে এখনও ক্ষত রয়েছে। যা তদন্তে আসলে প্রমাণিত
হবে।এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা বেনাপোল পোর্ট থানার সেকেন্ড অফিসার
এসআই লিখন জানান, বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ও যশোর জেলা
গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে জাহাঙ্গীর মোল্লার বিচালি
গাদা থেকে ১০টি অবিস্ফোরিত ককটেল বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এ
ঘটনায় আরও অনুসন্ধানপূর্বক আসামী আটকের বিষয়ে পুলিশ তৎপর
রয়েছে।
সচেতন শার্শাবাসী যখন একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং
শান্তিপূর্ণ ভোট উৎসবে মেতে উঠেছি। তখন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী
আশরাফুল আলম লিটনের (ট্রাক) মার্কার সমর্থক ও পোষ্য মোক্তার মেম্বার
বোমা মজুদ করছে শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য।
সচেতন এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছে, যে বা যারা
শান্তিপূর্ণ ভোট উৎসবকে বাঁধাগ্রস্ত করতে তৎপর আছে তাদের
আইনের আওতায় আনা হোক।
এরা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু,এই শত্রুদেরকে আইনের আওতায় এনে
শান্তিপূর্ণ নিরাপদ একটি ভোট উৎসব উপহার দেয়াসহ এদের পিছন
থেকে যারা কলকাঠি নাড়ছে সেইসব মাস্টার মাইন্ডদেরকেও আইনের
আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের প্রতি।
এদিকে, শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্নবানে
জর্জরিত হয় যশোর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম
লিটন। নির্বাচনে জামায়াত নেতাকে সাথে নিয়ে প্রচারণা
চালাচ্ছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে উত্তেজিত হয়ে তিনি
বলেন ‘কোথা থেকে ব্রিফিং নিয়ে এসেছেন তা জানি’।
প্রশ্নকারী সাংবাদিককে ইঙ্গিত করে এটি বলার পর অন্যান্য
সাংবাদিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ফলে সংবাদ সম্মেলনে উত্তপ্ত
পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here